স্রোতের তোড়ে পন্টুন বিচ্ছিন্ন, রাঙ্গাবালীতে নৌপথে দুর্ভোগে হাজারো যাত্রী

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৫:৩৩

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার জেলা শহরের সাথে নদীপথে প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম কোড়ালিয়া লঞ্চঘাটের জেটি থেকে পন্টুন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নৌপথের অসংখ্য যাত্রী। বিকল্প উপায়ে নৌ-যানে ওঠানামা করতে দুর্ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১০ জুন রাতে আগুনমুখা নদীর প্রবল স্রোতে জেটি ভেঙে পন্টুনটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) পন্টুনটি উদ্ধার করে ঘাটের পাশে বেঁধে রাখলেও যাত্রী ওঠানামার কোনো ব্যবস্থা রাখেনি।

ঘাট ইজারার অংশীদার বশির প্যাদা জানান, জেটিটি আগে থেকেই দুর্বল ছিল। নদীর তলদেশে মাটি সরে যাওয়ায় পন্টুনটি স্থির রাখার খুঁটিগুলো হেলে পড়ে, যার কারণে জোয়ারের চাপে জেটি তলিয়ে পন্টুনটি ভেসে যায়। প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে ঢাকাগামী লঞ্চ, স্থানীয় নৌরুটের যাত্রীবাহী নৌযান ও মালবাহী ট্রলার চলাচল করে, কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এই ভোগান্তি চলছে।

ট্রলার মালিক হাসান বলেন, পন্টুনের সঙ্গে জেটির সংযোগ না থাকায় যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে  ট্রলারে ওঠানামা করতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ী মো. মেহেদী জানান, পণ্য পরিবহণে তাকে বাড়তি খরচ ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের বাহেরচর বাজারের স্যানিটারি ও হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আজাদ বলেন,

প্রতি সপ্তাহে দুই দিন ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে ব্যবসায়িক পণ্য কোড়ালিয়া লঞ্চঘাটে আসে। এরপর পণ্যগুলো পন্টুন হয়ে সড়কপথে দোকানে আনা হয়। কিন্তু পন্টুন বিচ্ছিন্ন থাকায় পণ্য পরিবহনে পোহাতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভোগান্তি ও দ্বিগুণ ব্যয়।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. খায়রুল হাসান বলেন, দ্রুত পন্টুন স্থাপনের জন্য বিআইডব্লিউটিএ-কে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তবে তারা কারিগরি জটিলতার কথা জানিয়েছ।

পটুয়াখালী নৌবন্দরের উপপরিচালক জাকি শাহারিয়ার জানান, ভাঙনপ্রবণ এলাকা হওয়ায় পন্টুনটি উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, নতুন অর্থবছরে দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ শুরু হবে, যাতে প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে।

ইত্তেফাক/এপি