ভারতের পাহাড়ি রাজ্য হিমাচল প্রদেশে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩ জন যাত্রী। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি থেকে মাত্র একজনকে অলৌকিকভাবে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লাহৌল-স্পিতি জেলার দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে আকস্মিক ভূমিধসে একটি যাত্রীবাহী গাড়ি বিশাল আকৃতির পাথর ও মাটির নিচে চাপা পড়লে এই রক্তক্ষয়ী প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, উদয়পুর-কিলার সড়কের অত্যন্ত বিপজ্জনক কাহু-দু নালা সংলগ্ন এলাকায় শুক্রবার এই মর্মান্তিক বিপর্যয়টি ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত ‘টাটা সুমো’ গাড়িটি কুল্লু থেকে পাঙ্গির অভিমুখে রওনা হয়েছিল। পথিমধ্যে হঠাৎ করেই রাস্তার ওপরের পাহাড় ভেঙে বিশালাকার পাথরের খণ্ড ও তরল মাটির স্তূপ মুহূর্তের মধ্যে গাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে। বিকট শব্দে ধেয়ে আসা ধ্বংসস্তূপের নিচে পিষ্ট হয়ে গাড়িটি সম্পূর্ণ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার বিকট আওয়াজ ও খবর পাওয়া মাত্রই উদ্ধারকার্যে নেমে পড়ে টিন্ডি থানা পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উদ্ধারকারী বাহিনীর একটি চৌকস দল। পাথর ও মাটির স্তূপ সরিয়ে তারা নিবিড় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। সেই ধ্বংসস্তূপের গহিন থেকে চরম মুমূর্ষু অবস্থায় এক যাত্রীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। দ্রুত তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে বর্তমানে তার জরুরি চিকিৎসা চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, নিহতদের সারিতে দুর্ভাগ্যবশত গাড়িটির চালক বীর সিংও রয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই দুর্ঘটনার ঠিক আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবারও ওই একই উদয়পুর-কিলার সড়কে অন্য একটি পয়েন্টে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছিল, যার ফলে সাময়িকভাবে পথটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাস্তা অবরুদ্ধ থাকায় গাড়ির আরোহীরা বাধ্য হয়ে টিন্ডি এলাকায় অবস্থান নিয়েছিলেন। পরদিন শুক্রবার সড়কটি চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হলে তারা আবারও গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত পথেই তাদের এই মারাত্মক পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়। দুর্গম এলাকাটিতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে প্রশাসন।

