পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা কুমিল্লা ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হওয়া নারী যাত্রী লাইজুকে জীবিত উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। পরে তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচলকারী কুমিল্লা ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন লাইজু। তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদ ঝাউচর এলাকার বাসিন্দা ফরকান মিয়ার স্ত্রী।
কুমিল্লা ফেরির মাস্টার আব্দুস সাত্তার জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফেরিটি পাটুরিয়া ঘাট ছেড়ে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। মাঝনদীতে পৌঁছানোর পর ফেরির এক কর্মী জানান, মোবাইলে কথা বলার পর এক নারী যাত্রী নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে ফেরি থামিয়ে খোঁজাখুঁজি করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ওই নারী ফেরিতে একাই ভ্রমণ করছিলেন। পরে বিষয়টি নৌপুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
ওসি ত্রিনাথ সাহা বলেন, খবর পেয়ে নৌপুলিশ পদ্মা নদীতে তল্লাশি চালালেও প্রবল স্রোতের কারণে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে মধ্যরাতে খবর পাওয়া যায়, ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার কবিরপুর চর এলাকায় স্থানীয়রা এক নারীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন। পরে কোতোয়ালি নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেন।
তিনি আরও জানান, রোববার সকালে লাইজুকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে নৌপুলিশের কাছে থাকা তার ব্যাগ ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রীও পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে তিনি পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চলছে।

