কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া পুরাতন বালুঘাট এলাকায় অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। একই দিনে দুই দফা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ট্রাক জব্দ, জরিমানা ও তিনজনের কারাদণ্ডের পরও প্রশাসনের অভিযান শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র নদী থেকে বালু তুলে বিক্রি করে আসছে। একাধিকবার অভিযান হলেও স্থায়ীভাবে এ কার্যক্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বিশেষ সংবাদের ভিত্তিতে তালবাড়িয়া পুরাতন বালুঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকিউল আলম এবং কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী পরিচালক (ভূমি ও রাজস্ব) মো. আমিনুল ইসলাম।
অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে তিনটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের গতিরোধ করা হয়। এ সময় দুটি ট্রাকের চালক ও সহযোগীদের আটক করা হলেও অপর ট্রাকের চালক ও হেলপার গাড়ির চাবি নিয়ে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি। জব্দ করা দুটি ট্রাক পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় আটক তিনজনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মেহেরপুরের মো. বিপুল (২০), নাঈম (২০) এবং কুষ্টিয়ার আমলা সদরপুর এলাকার রাসেল (২৩)।
এর আগে একই দিন দুপুরে ওই এলাকায় আরেকটি অভিযানে দুটি বালুবাহী ট্রাককে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, ওই অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই আবার নদী থেকে বালু উত্তোলন শুরু হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০টি বালুবাহী ট্রাক চলাচল করে। এতে ধুলাবালি, শব্দদূষণ ও ভারী যানবাহনের কারণে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
আরেক বাসিন্দা বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমতি আছে কি না, তা তারা জানেন না। তবে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু পরিবহন করা হচ্ছে। কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পরিবেশের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকিউল আলম বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

