হংকংয়ে সুউচ্চ ভবনে ব্যানার শান্তি চাইলেন ‘স্পাইডারম্যান’

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৯, ০১:১৭

শুক্রবার হংকংয়ের একটি বহুতল ভবন বেয়ে উঠতে দেখা গেল ‘স্পাইডারম্যান’ নামে পরিচিত এক ভবন আরোহীকে। বিনা কারণে অবশ্য ওঠেননি অ্যালাইন রবার্ট নামের এই ফরাসি নাগরিক। হংকংয়ে চলমান রাজনৈতিক অরাজকতার বিরুদ্ধে শান্তির বার্তা নিয়ে ঐ ভবনে একটি ব্যানার টাঙানোই ছিল ফরাসি ‘স্পাইডারম্যানের’ উদ্দেশ্য। করমর্দনের ছবিসহ হংকং ও চীনের পতাকাখচিত একটি ব্যানার টাঙান অ্যালাইন রবার্ট।

সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে অ্যালাইন রবার্ট বললেন, ‘হংকংয়ের জনগণ ও সরকারের মধ্যে অতিদ্রুত আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনার বার্তা’ দিতেই হংকংয়ের ঐ ভবনে আরোহণ করেছেন তিনি। রবার্ট বলেন, ‘বোধ করি আমি যেটুকু করতে পারি তা হলো, পরিস্থিতির উত্তাপ কিছুটা কমানো এবং হয়তো একটু হাসি ফোটানো। এটাকে আমার প্রত্যাশা বলতে পারেন আর কি।’

আরো অনেক আরোহণের মতো হংকংয়ের ৬৮ তলা চিয়াং কং ভবনে ওঠার জন্যও কোনো দড়ি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখেননি রবার্ট। এদিকে ‘স্পাইডারম্যানে’র ভবন আরোহণ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নেটিজেনবাসী। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত চীনা বংশোদ্ভূত শিল্পী বাডিয়ুকাও টুইটে লেখেন, ‘আপনি কি সত্যিই কসাই ও স্বৈরশাসকের সঙ্গে হাত মেলাতে চান?’

চিয়াং কং সেন্টারের মালিক এশিয়ার অন্যতম ধনী লি কা শিং। গত কয়েক সপ্তাহের সংঘর্ষের অবসান চেয়ে শুক্রবার হংকংয়ের বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন বিলিওনেয়ার লি কা শিং। সাধারণত আগে থেকে কিছু না জানিয়ে অথবা পূর্ব অনুমতি না নিয়ে বহুতল ভবনে আরোহণ করে থাকেন রবার্ট। এর আগেও চিয়াং কং সেন্টারসহ হংকংয়ের কয়েকটি ভবন বেয়ে উঠেছিলেন ‘স্পাইডারম্যান’। গত বছরের আগস্টে হংকংয়ের একটি আদালতে রবার্টকে শহরের কোনো ভবনে আরোহণের বিষয়ে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যে কোনো সন্দেহভাজন অপরাধীকে চীন সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার একটি প্রত্যর্পণ বিল নিয়ে গত এপ্রিলে হংকংয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এ বিল বাস্তবায়ন হলে হংকংয়ের আইনি স্বাধীনতায় চীন হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পাবে এবং যে কোনো সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড দমনের হাতিয়ার হিসেবে এটাকে ব্যবহার করা হবে বলে সমালোচকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: জাকির নায়েকের স্থায়ী নাগরিকত্ব বাতিল হতে পারে: মাহাথির

এরপর থেকেই হংকংয়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিতর্কিত প্রত্যর্পণ বিলটি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে হংকং প্রশাসন। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের দাবি বিলটি স্থায়ীভাবে বাতিল করতে হবে।

ইত্তেফাক/এসআর