জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ‘ড্রাগড’ বলে মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মোহাম্মদ আলী আরাফাত। তিনি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরাফাত বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা রাজপথে নাশকতা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করছেন। প্রমাণ পাওয়া গেছে ছাত্রদের অনেকে ড্রাগড ছিল। যেন তারা বুক পেতে পুলিশের সামনে চলে আসতে পারে। আপনারা জানেন এর আগে জঙ্গি আক্রমণ হয়েছে পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশে। নাইন ইলেভেনের সময় যেটি করলো আমেরিকাতে এরাও কিন্তু ড্রাগড ছিল।’
সবশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর ১৫ আগস্ট ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি। এতে তিনি লেখেন, এত লাশের ওপর দিয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকতে চাননি বলেই তিনি ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু এত লাশের ওপর দিয়ে যারা ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিল, তারা তো এখন ক্ষমতার অংশীদার, তাহলে তারা কেন আরও লাশ ফেলছে?’ শোকাবহ আগস্ট মাসে জাতির জীবনে যেন আরও শোক নেমে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৪ সালের ১২ আগস্ট মোহাম্মদ আলী আরাফাত, তার স্ত্রী ও তাদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে লেনদেন স্থগিত করার আদেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংকর আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ। সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়।
এরপর ২৭ আগস্ট বিকেল রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসে। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কিংবা তাদের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। গ্রেপ্তার এড়াতে বর্তমানে সে আত্মগোপনে রয়েছে।

