ভারতের উত্তর প্রদেশের সেভাটা এলাকার বিজেপি বিধায়ক জ্ঞান তিওয়ারির সঙ্গে প্রতারণার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ভুয়া পরিচয় দিয়ে অন্তত ২৫টি বিয়ে করা এবং বহু নারীকে প্রতারণার জালে ফেলা এক ব্যক্তির সঙ্গে নিজের মেয়ের বিয়ে দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এই বিধায়ক। এই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়েরের পর অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশ।
রোববার দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিধায়কের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে অনুজ ত্রিবেদী এবং তার ছেলে প্রখর ত্রিবেদীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে গত ৬ আগস্ট বিজেপির এই বিধায়ক তার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে প্রতারিত হওয়ার এই অভিযোগ করেন।
রেউসা থানায় দায়ের করা অভিযোগে বিধায়ক জ্ঞান তিওয়ারি বলেছেন, ২০২৪ সালে উত্তর প্রদেশের মিসরিখের চন্দ্রওয়ালের বাসিন্দা অনুজ ত্রিবেদীর ছেলে প্রখর ত্রিবেদীর সঙ্গে তার মেয়ে প্রজ্ঞার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় অনুজ ত্রিবেদী নিজেকে মুম্বাইয়ের একজন স্বনামধন্য আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন এবং নিজের অতীত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য গোপন করেন।
অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজখবর এবং এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পরই এই বিয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তবে বিয়ের প্রায় আড়াই বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে প্রখর ত্রিবেদীর আসল রূপ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কথা জানতে পারে বিধায়কের পরিবার।
জ্ঞান তিওয়ারি বলেছেন, প্রখর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মহারাষ্ট্রসহ বিভিন্ন রাজ্যের একাধিক নারীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি এ পর্যন্ত প্রায় ২৫টি বিয়ে করেছেন বলেও অভিযোগ করেন এই বিধায়ক।
এই ঘটনা জানার পর ওই পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজের মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে এনেছেন বলে জানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক। তিনি বলেন, এই ঘটনা তার পরিবারকে গভীর মানসিক আঘাত দিয়েছে এবং একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার সামাজিক ভাবমূর্ত ক্ষুণ্ন করেছে।
রাজ্য পুলিশের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুজ ত্রিবেদীর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেছে রেউসা থানা পুলিশ এবং আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। ভিডিওতে জ্ঞান তিওয়ারি বলেন, তার পরিবার প্রতারণার শিকার হয়েছে এবং তিনি অভিযুক্ত অনুজ ত্রিবেদীর মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

