স্ত্রীর মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে নিজেই করতে যান নিখোঁজের জিডি, স্বামী আটক

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১৬:২২

নরসিংদীর মাধবদীতে স্বামীর থাপ্পড়ে টিউবওয়েলের ওপর পড়ে মাথায় আঘাত পেয়ে জাহানারা বেগম (৩৮) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে স্ত্রীর মরদেহ পাশের কবরস্থানে মাটিচাপা দিয়ে নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে থানায় যান স্বামী শরীফ মিয়া (৪২)।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহের পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার শরীফ মিয়া উপজেলার ভগীরথপুর এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তবে একই উপজেলার নোয়াকান্দি গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রী ও আট বছরের মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় তিনি কাজ করতেন।

পুলিশ ও নিহত নারীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাহানারা ও শরীফের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই দাম্পত্য কলহ চলছিল। সোমবার বিকেলে স্ত্রীর সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় তিনি স্ত্রীকে থাপ্পড় দিলে টিউবওয়েলের ওপর পড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে যান। পরে জ্ঞান না ফেরায় তাকে ঘরে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর স্ত্রী মারা গেছেন বুঝতে পারেন। জানাজানি হওয়ার ভয়ে কাউকে না জানিয়ে মরদেহ বাড়ির পাশের কবরস্থানে নিয়ে যান শরীফ। সেখানে তিনি একাই লাশটি মাটিচাপা দেন।

পরদিন সকালে জাহানারাকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তখন শরীফ তাদের বলেন, জাহানারা আগের দিন বিকেলে আড়াইহাজার বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। তার মুঠোফোনও বাড়িতে রেখে গেছেন।

এরপর শ্বশুর ও স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে জাহানারা নিখোঁজের জিডি করতে চান শরীফ। তবে তার কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাকে আপাতত জিডি না করে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেয়।

এদিকে গত মঙ্গল ও বুধবার শরীফকে ওই কবরস্থানের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। এতে তাদের সন্দেহ হয়। বুধবার রাত নয়টার দিকে কবরস্থানের সামনে শরীফকে দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তারা। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ কবরস্থানে মাটিচাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন শরীফ।

মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে নোয়াকান্দি গ্রামের ওই কবরস্থান থেকে শরীফকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্ত্রীর লাশ গুমের কথা শরীফ স্বীকার করেছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা থাকায় আপাতত ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। নিহত নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার পর ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশ তোলার প্রক্রিয়া চলছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হবে।

ইত্তেফাক/এমএসআর