ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হ্যাপি বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী রাকিব হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি রাকিব আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৫ মে রাকিব তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে ৫ লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল যৌতুক দাবি করেন। যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় হ্যাপি বেগমের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে নিহত হ্যাপি বেগমের বাবা হুমায়ুন শেখ সদর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে গিয়ে বারান্দায় মেয়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৮ জুলাই কোতোয়ালি থানার এসআই মো. হুমায়ূন শেখ অভিযুক্ত রাকিবের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে বিচারক আজ এই রায় দেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী খান রতন বলেন, এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সমাজে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মতো অপরাধ প্রবণতা কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে।

