শেখ হাসিনাকে ফেরাতে শিক্ষকদের গোপন তৎপরতা, ব্যবস্থা নিচ্ছে পবিপ্রবি প্রশাসন

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৯:০৭

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর গোপন তৎপরতায় জড়িত ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকায় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) কয়েকজন শিক্ষক রয়েছেন। 

এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রস্তুতির কাজ শেষ পর্যায়ে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে এবং আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। প্রশাসন জানায়, বিষয়টির ব্যাপকতা বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হচ্ছে না।

গত ৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে জারি করা অফিস আদেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলামকে আহ্বায়ক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান ও অধ্যাপক ড. নেছার উদ্দিন আহমেদকে সদস্য এবং রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয়।

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির কাজে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। তারা জানান, বিষয়টির ব্যাপকতা বিবেচনায় নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের আওতা শুধু প্রকাশিত তালিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, আমাদের তদন্ত প্রতিবেদন খুব শিগগিরই জমা দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা অনেকাংশেই তদন্ত প্রতিবেদনের কাজ সম্পন্ন করে ফেলেছি। খুব দ্রুতই জমা দেওয়া হবে। এখানে আমরা বৃহত্তর পরিসরে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। গণমাধ্যমে যেসব নাম এসেছে, তার বাইরে আরও অনেক কিছুই আছে। আমরা শিগগিরই সবকিছু সামনে নিয়ে আসব।

উপ-উপাচার্য আরও জানান, এ মুহূর্তে তদন্তের স্বার্থে বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না, তবে শাস্তি প্রদানের পাশাপাশি সবকিছুই প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হবে। আমরা সে প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

ইত্তেফাক/এমএসআর