‘৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষ খান’, ব্রিক্‌সের নিরামিষ ভোজ নিয়ে রাহুল গান্ধীর কটাক্ষ

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:১৯

ব্রিকস সম্মেলনে রাষ্ট্রপ্রধান ও অতিথিদের জন্য আয়োজিত নৈশভোজের মেন্যুতে আমিষ খাবার না থাকাকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের মধ্যেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তর ভারতের জনপ্রিয় খাবার ছোলে ভাটুরের ছবি প্রকাশ করেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ছবির সঙ্গে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষ খাবার খান। 

ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘১উল্লেখ্য যে ৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষাশী। ভারতের আমিষ খাবার সুস্বাদু। যেমন আমার বোনের ছোলে ভাটুরে।’

রাহুলের পোস্টে সরাসরি ব্রিকস সম্মেলনের নৈশভোজের প্রসঙ্গ না থাকলেও সম্মেলন ঘিরে খাবারের মেন্যু নিয়ে বিতর্কের সময়েই এটি প্রকাশিত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজিত ওই নৈশভোজে পনির, বিভিন্ন ধরনের মিলেটের পদ এবং জিলাপিসহ বেশ কিছু ভারতীয় খাবার রাখা হয়েছিল। তবে মেন্যুতে মাছ, মাংস বা অন্য কোনো আমিষ পদ ছিল না।

এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। দলটির নেতা পবন খেরা অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার ভারতীয়রা কী খাবেন বা খাবেন না, সে বিষয়ে নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা রাষ্ট্রপ্রধান ও বিশিষ্ট অতিথিদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিষয় দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে কংগ্রেসের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তার ভাষ্য, খাবারের মেন্যু নিয়েও রাজনীতি করছে কংগ্রেস। তিনি বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে আসা রাষ্ট্রপ্রধানেরা নিরামিষ খাবার খেয়েছেন এবং মেন্যুর মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের খাদ্যসংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে। খাবারগুলো স্বাদ ও পুষ্টির দিক থেকেও মানসম্মত ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

রাহুলের ‘৮০ শতাংশ’ দাবির ভিত্তি কী
রাহুল গান্ধীর ৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষ খান—এই দাবির নির্দিষ্ট ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের সর্বশেষ জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষায় দেশটির আমিষভোজী ও নিরামিষভোজীদের সামগ্রিক অনুপাতের নির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া হয়নি।

এর আগের সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ভারতীয় পুরুষদের ৮৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নারীদের ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো না কোনো সময় মাছ বা মাংস খেয়েছেন।

ফলে রাহুলের বক্তব্যকে ঘিরে শুধু ব্রিকসের নৈশভোজ নয়, ভারতের মানুষের খাদ্যাভ্যাস, ব্যক্তিগত খাবারের পছন্দ এবং খাবারকে রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস