অডিও ভাইরালের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

ক্যান্টনমেন্ট থানার সেই ওসি কোথায় আছেন— জানেন না কেউ

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:০৫

সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে আপত্তিকর ও বিতর্কিত মন্তব্য সম্বলিত অডিও ফাঁসের ঘটনার পর অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক মো. রাকিবুল হাসানকে নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে ঘটনাটি তদন্তের জন্য উপকমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের নিয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটি ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে প্রত্যাহার হওয়া এই পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে পুলিশের দায়িত্বশীল কেউই নিশ্চিত করে কোনো তথ্য দিতে পারছেন না।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকার ও বিভিন্ন বাহিনীকে নিয়ে পরিদর্শক রাকিবুল হাসানের বিতর্কিত বক্তব্যের ঘটনা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডিএমপির উপকমিশনার পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তাকে নিয়ে গঠিত এই কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে ডিএমপি কমিশনারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশের একটি সূত্র জানালেও, ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়নি এবং তিনি কোথায় আছেন তা তার জানা নেই। এছাড়া ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী এবং তদন্ত কমিটির সদস্যরাও রাকিবুল হাসানের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি। এমনকি তার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যান্টনমেন্ট থানার তৎকালীন ওসি মো. রাকিবুল হাসানের একটি কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে তাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা, পুলিশের সার্বিক সক্ষমতা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং পুলিশে বিভিন্ন পদে পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন নিয়ে নানা চাঞ্চল্যকর ও কঠোর মন্তব্য করতে শোনা যায়। ভাইরাল হওয়া ওই অডিওর সত্যতা নিয়ে প্রাথমিক নিশ্চিত হওয়ার পর গত বুধবারই তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে ‘প্রশাসনিক কারণে’ সংযুক্ত করা হয়।

সূত্র: প্রথম আলো

ইত্তেফাক/এএম