বিশ্ব হার্ট দিবসে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হসপিটালের মাসব্যাপী আয়োজন

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৪৫

বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে হৃদযন্ত্রের সুস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক কার্ডিয়াক চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি আয়োজন করেছে মাদানী এভিনিউয়ের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হসপিটাল।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হার্ট দিবসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইউনাইটেড কার্ডিয়াক সেন্টারের সাফল্য, কার্ডিওলজি ও কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) উপপরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটন এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিভিডি) কার্ডিওলজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক অধ্যাপক ডা. হাসিনা বানু।

ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটন বলেন, “ইউনাইটেড কার্ডিয়াক সেন্টারের দক্ষ চিকিৎসক দল, আধুনিক অবকাঠামো ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তি প্রমাণ করে যে উন্নতমানের কার্ডিয়াক চিকিৎসাসেবা এখন দেশের মাটিতেই পাওয়া সম্ভব। দেশের ভেতরেই এ ধরনের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হওয়ায় রোগীদের বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়া এবং এর সঙ্গে যুক্ত বিপুল ব্যয় থেকেও সাশ্রয় হবে।”

অধ্যাপক ডা. হাসিনা বানু বলেন, “বাংলাদেশে হৃদরোগে আক্রান্তদের বেশিরভাগই বংশগত কারণে ঝুঁকিতে থাকেন। তাই চিকিৎসক হিসেবে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং এমন উদ্যোগ নেওয়া আমাদের দায়িত্ব, যাতে পরবর্তী প্রজন্ম হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ে বেড়ে না ওঠে।”

অনুষ্ঠানে ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামুদ্দিন হাসান রশিদ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় ইউনাইটেড গ্রুপের অঙ্গীকার তুলে ধরেন।

ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হসপিটালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ. কিউ. এম. মোহসেন বলেন, “বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ কার্ডিওলজি চিকিৎসকরা জানেন, ৪০ বছর আগেও দেশে বিশ্বের সমমানের আধুনিক কার্ডিয়াক প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের সুযোগ খুবই সীমিত ছিল। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেই অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিতে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হসপিটাল কাজ করছে, যাতে দেশের মানুষ উন্নতমানের কার্ডিয়াক চিকিৎসা দেশের মাটিতেই পান এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে না হয়।”

পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর ‘Celebrating Life, Care & Recovery’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হসপিটালে হৃদরোগের চিকিৎসা নেওয়া রোগীরা তাঁদের চিকিৎসা, সংগ্রাম ও সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ইউনাইটেড কার্ডিয়াক সেন্টারের আধুনিক প্রযুক্তি, অভিজ্ঞ চিকিৎসক দল এবং ক্রমবর্ধমান সেবার পরিধি সম্পর্কে তাঁদের জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় তপু বর্মণ। চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা আরও জোরদার করছে বলে জানানো হয়।

মাসব্যাপী হৃদরোগ সচেতনতা কার্যক্রমের শুরু হয় ‘The 100 KM Walking Challenge’ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। এর পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের জন্য কার্ডিয়াক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর গুরুত্ব সম্পর্কেও সচেতন করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি