মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জমিতে ছড়িয়ে রাখা ‘বিষ মেশানো ধান’ খেয়ে ৭০টি ডিমপাড়া হাঁস মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় খামারি শাহাবুদ্দিন (৩৫) জানান, হাঁসগুলোর মৃত্যুর পাশাপাশি তার খামারের আরও দুই শতাধিক হাঁস অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
রোববার (৫ অক্টোবর) উপজেলার পূর্ব সিঙ্গুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
শাহাবুদ্দিনের বাড়ি ওই এলাকায়। সোমবার সকালে মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে তিনি জানান, তার খামারে মোট ৩১০টি ‘ক্যাম্পবেল’ জাতের হাঁস ছিল, যেগুলো স্থানীয়ভাবে ‘টেপি হাঁস’ নামে পরিচিত। হাঁসগুলোর বেশির ভাগই ডিম দিত। প্রতিদিন সকালে বাড়ির পাশের হাতপারি গাঙে হাঁসগুলো ছেড়ে দিতেন তিনি। বিকেলে সেগুলোকে আবার বাড়িতে নিয়ে আসতেন।
গতকাল সকালেও হাঁসগুলো নদীতে ছেড়ে আসেন শাহাবুদ্দিন। পরে দুপুরে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ৭০টি মৃত হাঁস দেখতে পান। সেখানে স্থানীয় লোকজনের আরও ছয়টি মৃত হাঁস পড়ে ছিল। পরে বাকি হাঁসগুলো তিনি বাড়িতে নিয়ে আসেন।
শাহাবুদ্দিনের ভাষ্য, নদীর কিনারের একটি জমিতে কিছু ধান ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা ছিল। মৃত হাঁসের পেটের ভেতর ওই ধান পাওয়া যায়। তার ধারণা, বিষ মেশানো ধান খেয়েই হাঁসগুলো মারা গেছে।
জীবিকার তাগিদে পাঁচ বছর আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন শাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালে অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরে হাঁসের খামার গড়ে তোলেন। এই খামারের আয়েই তার সংসার চলে। এক প্রাণিচিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী বাকি অসুস্থ হাঁসগুলোকে ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে।
বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ময়নুল হক ঘটনাটিকে ‘অমানবিক’ উল্লেখ করে বলেন, এ কাজে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে কুলাউড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে খামারমালিককে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
