পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দুধ পান করে ১৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। দুধ পান করার পর তাদের মাথা ঘোরা, পেট ব্যথা, খিঁচুনি ও দুর্বলতাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে দুধ পান করার পরপরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। পরে অসুস্থদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভর্তি শিক্ষার্থীদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্যাকেটজাত দুধ বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের ‘আরডি’ নামের কয়েকটি দুধের প্যাকেটে ফুটো দেখতে পান শিক্ষকরা। পাশাপাশি কয়েকটি প্যাকেটের দুধ দইয়ের মতো জমাট অবস্থায়ও দেখা যায়।
বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনকে জানানো হয়। শিক্ষকেরা দুধের প্যাকেটের ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার কাছে পাঠান। পরে মনোয়ার হোসেন বিদ্যালয়ে এসে দুধ পরীক্ষা করে নিজেই তা পান করেন এবং দুধে কোনো সমস্যা নেই বলে জানান। এরপর শিক্ষার্থীদের দুধ পান করতে বলা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা দুধ খাওয়ার পর থেকে কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থী পেটব্যথা, খিঁচুনি, মাথা ঘোরাসহ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রাত ৭টা পর্যন্ত প্রায় ১৯ জনের মতো শিশু শিক্ষার্থী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তসলিমা খাতুন বলেন, দুধ বিতরণের সময় কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো ও দইয়ের মতো জমাট অবস্থা দেখতে পাওয়া যায়। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানিয়ে দুধ বিতরণ না করার কথাও বলা হয়েছিল। তবে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন নিজে দুধ খেয়ে শিক্ষার্থীদেরও খেতে বলেন। এরপরই কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনির হোসেন বলে, দুধ খাওয়ার পর থেকেই তার মাথা ও পেটব্যথা শুরু হয়। দাঁড়িয়ে থাকতে না পারায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক তসলিমা খাতুন বলেন, দুধ বিতরণের সময়ই আমরা কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো এবং দুধ দইয়ের মতো দেখতে পাই। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানিয়ে দুধ বিতরণ না করার জন্য বলেছিলাম। পরে কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন এসে নিজে দুধ খেয়ে সবাইকে খেতে বলেন। এরপরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে।
পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, প্রথমে একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে অন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা একে একে তাদের সন্তানদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। রাত ৭টা পর্যন্ত প্রায় ১৯ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে এসেছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সবার অবস্থা স্থিতিশীল এবং অনেকেই ভালো আছে। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, বিষয়টি জানার পর হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজ নেওয়া হয়েছে। দুধের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
