ঢাকায় তখন বুধবার ভোর ৫টা। বুয়েনস আইরেসে মঙ্গলবার রাত। ঠিক সেই মুহূর্তে শেষ বারের মতো আকাশি-সাদা জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি। প্রতিপক্ষ বেনিন। ভেন্যু এস্তাদিও মনুমেন্তাল। ম্যাচটা নামে প্রীতি। কিন্তু আর্জেন্টিনার কাছে এটা এক যুগের শেষ অধ্যায়। একুশ বছর ধরে এই জার্সি গায়ে মেসি। এই সময়ে ২০৭ ম্যাচে করেছেন ১২৫ গোল। গোলসংখ্যা জাতীয় দলের রেকর্ড। জিতেছেন দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি ফিনালিসিমা। ২০২২ সালে এনে দিয়েছেন বিশ্বকাপ। ৩৬ বছরের অপেক্ষা সেদিন শেষ হয়েছিল তার হাতেই। ব্যালন ডি'অর জিতেছেন আট বার। এত কিছুর পর এমন একটা বিদায় তো প্রাপ্যই।
গত রবিবার এসেইসায় দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সি অধিনায়ক। প্রথম অনুশীলন শেষে ছিল দলীয় আসাদো (বার্বিকিউ) ভোজ। কোচ লিওনেল স্কালোনির দল আছে দারুণ ছন্দে। বলিভিয়াকে হারিয়েছে ৪-০ গোলে। বুরকিনা ফাসোকে উড়িয়েছে ৭-০ ব্যবধানে। এবার সব চোখ শুধু একজনের দিকে। আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া জানিয়েছেন, তারা মেসিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যেন তিনি নিজের দেশের মাটিতে প্রাপ্য বিদায়টা পান। গ্যালারিতে থাকবেন ৮৫ হাজার দর্শক। রিভার প্লেটের মাঠে থাকবে আতশবাজি, আবেগ আর স্মারক জার্সি। পুরো রাতটাই সাজানো হয়েছে ঘরের মাঠের শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে। মেসির পাশে মাঠে নামবেন জিওভানি লো সেলসো, রদ্রিগো দে পল ও নিকোলাস ওটামেন্দি। গ্যালারি থেকে অধিনায়ককে বিদায় জানাবেন লেয়ান্দ্রো পারেদেস। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ফিফার ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় আছেন তিনি। তবু এই রাতে সতীর্থের পাশে থাকতে ছাড়ছেন না। আসতে পারছেন না পাউলো দিবালা ও নাউয়েল মোলিনা। তাদের ছাড়েনি রোমা।
এই উৎসবের আড়ালে একটি তর্কও আছে। ফরাসি অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোমা মোলিনার দাবি, এএফএ ঝুঁকি এড়াতে দুর্বল প্রতিপক্ষ বেছেছে। তার অভিযোগ, বেনিনের খেলোয়াড়দের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ২৫ ঘণ্টা ভ্রমণ করতে হয়েছে। হোটেলের একটি তলায় গরম পানি নেই। বুরকিনা ফাসোর অনেক খেলোয়াড় নাকি ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে পৌঁছেছেন। চড়া টিকিটের দামের প্রশ্নও উঠেছে। এসব এখনো দাবি মাত্র। সমালোচকদের যুক্তি একটাই, মেসি আরো সমানে সমান লড়াইয়ের যোগ্য ছিলেন। তার অবদান নিয়ে অবশ্য কারো প্রশ্ন নেই। বেনিন আসছে লড়তেই। গোলরক্ষক মার্সেল দানজিনু বলেছেন, তারা বেড়াতে আসেননি। দরকার হলে মেসির পেনাল্টিও ঠেকাতে চান। তবু এই রাতে ফল নিয়ে কারো মাথাব্যথা থাকার কথা নয়। মনুমেন্তালে ৮৫ হাজার মানুষ যাবেন একটাই কারণে। একজন মানুষকে শেষ বার দেখতে।
মেসিকে বিদায় জানাতে প্রস্তুত বুয়েনস আইরেস
- ‘গ্রাসিয়াস, লিও’ ফ্যান ফেস্ট: প্রিয় তারকাকে ধন্যবাদ জানাতে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে শুরু হবে বিশেষ ফ্যান ফেস্ট। যার নামকরণ করা হয়েছে ‘গ্রাসিয়াস, লিও’(ধন্যবাদ, লিও)।
- বিনোদন ও নানা আয়োজন: ফ্যান ফেস্টের মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকবে জমকালো সংগীতানুষ্ঠান ও বিনোদনমূলক পরিবেশনা। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে হরেক রকমের খাবারের ব্যবস্থা, বিভিন্ন ধরনের খেলার স্টল এবং দর্শক-বান্ধব ইন্টারেক্টিভ আয়োজন।
- তারকাদের মহামিলন: ফুটবলীয় এই রাজকীয় বিদায় অনুষ্ঠানকে রাঙিয়ে দিতে উপস্থিত থাকবেন দেশ-বিদেশের বিশেষ অতিথিরা। সেই সঙ্গে গ্যালারি ও ফ্যান ফেস্টে যোগ দেবেন নামি সব সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও জনপ্রিয় স্টিমাররা। পুরো আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হবে বিখ্যাত রিভার প্লেট স্টেডিয়ামে।
- বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার: মূল স্টেডিয়ামের পাশাপাশি উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে পুরো বুয়েনস আইরেসে। বুয়েনস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া মাঠে বসানো হচ্ছে বিশাল বড় পর্দা, যেখানে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে মেসিকে ঘিরে আর্জেন্টিনা- বেনিনের মধ্যকার এই ঐতিহাসিক ম্যাচটি।
