জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে নারীকে হত্যার অভিযোগে মার্কিন এক মেরিন সেনা গ্রেপ্তার এবং সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর এক মাসের কারফিউ ও মদপানে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
পাশাপাশি মার্কিন সেনাদের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সব সামরিক কার্যক্রম স্থগিত করে শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি নিয়ে প্রশিক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
গত শনিবার নাহা শহরের একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী আনা ইয়াগি নামের এক স্থানীয় নারীকে হত্যা এবং তার মানিব্যাগ ও ব্যাকপ্যাক ছিনতাইয়ের সন্দেহে ২০ বছর বয়সী ল্যান্স করপোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ডকে আটক করা হয়েছে। তবে ব্যালার্ড সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তাইওয়ান ও চীনের নিকটবর্তী এই দ্বীপপুঞ্জে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং এই ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এটি পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
এর আগে, গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে প্রতিটি যোগাযোগ আস্থা তৈরি করতে পারে, আবার তা নষ্টও করতে পারে। সেই আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে জোটের শক্তি ও এ অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রভাবিত হয়। ওকিনাওয়ায় সব মার্কিন সামরিক কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হবে বলেও জানান ওয়াটসন। এ সময় সেনাদের মানদণ্ড ও শৃঙ্খলা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াগির মৃত্যু শ্বাসরোধের কারণে হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্যালার্ড তার গলায় চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। হোটেলের কর্মীরা গত শনিবার ভোরে ওই নারীকে কক্ষে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। নির্ধারিত সময়েও তিনি হোটেল থেকে বের না হওয়ায় কর্মীরা বিষয়টি জানতে পারেন।
ঘটনার পর প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য অভিযানে নামে। এর আগে সিসিটিভি ফুটেজে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে এক ব্যক্তিকে হোটেলে প্রবেশ করতে দেখা যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ঘটনাটি ওকিনাওয়ায় মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষকে আবারও সামনে এনেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন বলেন, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে প্রতিটি যোগাযোগ দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে বা কমাতে পারে। সেই আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে জোটের শক্তি ও পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রভাবিত হয়।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি গত শনিবারের এই হত্যাকাণ্ডকে ‘অত্যন্ত বর্বর ও জঘন্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ ‘স্টার্স অ্যান্ড স্ট্রাইপস’ পত্রিকাকে জানিয়েছে, ব্যালার্ড ওই নারীর ‘গলায় চাপ প্রয়োগ’ করার ফলে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। হোটেলের কর্মীরা গত শনিবার ভোরের দিকে ওই নারীর রুমে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান, কারণ তিনি নির্ধারিত সময়ে চেক আউট করেননি। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ক্যামেরায় ভুক্তভোগীর সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে হোটেলে প্রবেশ করতে দেখার পর প্রায় ২০০ পুলিশ কর্মকর্তা তাকে খুঁজে বের করতে অভিযানে অংশ নেন।
জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিদেশি সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। দেশটিতে অবস্থানরত প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন মেরিন সেনার বেশিরভাগই ওকিনাওয়ায় মোতায়েন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৭২ সাল পর্যন্ত দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে ওকিনাওয়ার বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ রয়েছে। শব্দদূষণ, সামরিক বিমান দুর্ঘটনা এবং সেনাসদস্যদের বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ এ ক্ষোভকে আরও বাড়িয়েছে। ১৯৯৫ সালে তিন মার্কিন সেনার বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক ওকিনাওয়ান কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের পর সেখানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল।
