বন্ধুমহলে অনেকেরই বিয়ের সানাই বাজতে শুরু করেছে। এমন কী অনেকেই বিয়ের পর নতুন সংসার গুছিয়েও ফেলেছেন। কেউ বা আবার স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন যুগল ছবি। আর যারা এখনও একা বা অবিবাহিত জীবন কাটাচ্ছেন তাদের পড়তে হয় নানা প্রশ্নের মুখে।
আড্ডার টেবিলে কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠানে অবচেতনভাবেই অবিবাহিত সেই বন্ধুকে এমন কিছু কথা বলে ফেলা হয়, যা তাকে বিব্রত বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে। অনেক সময় নিছক কৌতূহল বা মজার ছলে বলা কথাগুলোও সম্পর্কের মধ্যে তৈরি করতে পারে দূরত্ব। বন্ধুত্ব ও মানসিক শান্তির স্বার্থে অবিবাহিত বন্ধুদের যে কথাগুলো বলা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন:
‘তোমার বিয়ের বয়স কিন্তু পার হয়ে যাচ্ছে’
জীবনের প্রতিটি মানুষের চলার গতি ও অগ্রাধিকার আলাদা। কেউ ক্যারিয়ার গুছিয়ে নিতে সময় নেন, কেউ মানসিক প্রস্তুতির অপেক্ষায় থাকেন, আবার কেউ হয়তো নিজের পছন্দমতো সঙ্গী খুঁজে পাচ্ছেন না। বয়স দিয়ে বিয়ের যোগ্যতা বিচার করা কেবল অযৌক্তিকই নয়, বরং তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর বাড়তি মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।
‘আর কত বাছবিচার করবে?’
পছন্দের মানুষ খুঁজে নেওয়ার বিষয়টিকে অনেকেই অতিরিক্ত খুঁতখুঁতে স্বভাব বা মাত্রাতিরিক্ত বাছবিচার বলে আখ্যা দেন। অথচ সারা জীবন একসঙ্গে কাটানোর জন্য একজন সঠিক মানুষকে বেছে নেওয়া প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার। এমন মন্তব্যে মনে হতে পারে যে তিনি ভুল করছেন, যা আদতে তার আত্মবিশ্বাসকে আঘাত করে।
‘বিয়ে না করলে কিন্তু একা একা বিষণ্ণ হয়ে পড়বে’
বিয়ে না করলেই একা থাকতে হবে কিংবা সংসার করলেই জীবনে কোনো একাকীত্ব থাকবে না—এমন ধারণা সবসময় বাস্তবসম্মত নয়। বহু মানুষ একা থেকেও পরিপূর্ণ, সুখী ও সামাজিক জীবনযাপন করছেন। ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন নেতিবাচক পূর্বাভাস দেওয়ার চেয়ে বন্ধুর বর্তমানকে সমর্থন করাই উত্তম।
‘বিয়ে করো, জীবন অনেকটাই হালকা লাগবে’
সংসার জীবনের যেমন ভালো দিক রয়েছে, তেমনি নানা চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্বও থাকে। অপরিপক্ব অবস্থায় বা অপ্রস্তুতভাবে সংসারে প্রবেশ করলে জীবন আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে। তাই বিয়ের ইতিবাচক দিকগুলোর সঙ্গে নেতিবাচক বাস্তবতা এড়িয়ে গিয়ে উপদেশ দেওয়া উচিত নয়।
একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর বিয়ে না করলে সমাজে নানা ধরনের অপ্রয়োজনীয় গুঞ্জন ও অনুমান শুরু হয়। বন্ধুদের পক্ষ থেকেও এমন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করা হলে বন্ধুত্বে দূরত্ব তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা মন্তব্য না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
‘তোমার দিন তো ভালোই কাটছে, কোনো দায়িত্ব নেই’
অবিবাহিত মানেই যে তার জীবনে দায়িত্ব বা মানসিক চাপ নেই, এমন ভাবা সম্পূর্ণ ভুল। পরিবার, কর্মক্ষেত্র কিংবা নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবারই নিজস্ব যুদ্ধ থাকে। তাদের সেই লড়াইকে হালকা করে দেখা সংবেদনশীলতার পরিপন্থী।
বিয়ে প্রতিটি মানুষের অত্যন্ত ব্যক্তিগত একটি সিদ্ধান্ত। সেখানে জোর বা অযাচিত কৌতূহলের কোনো স্থান নেই। ভালো বন্ধুর পরিচয় আড্ডায় খোঁচা দেওয়া কথায় নয়, বরং বন্ধুর প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা ও মানসিক সমর্থন জানানোর মাঝেই ফুটে ওঠে।
