সরকারি সফরের কথা বলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরীর নেতৃত্বে শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাহাড় ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, কুমিল্লায় গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী এবং সমাপনী অনুষ্ঠানের কথা বলে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করেছেন। এ জন্য ভাড়া করা হয়েছিল দুটি মাইক্রোবাস। সরকারি সফর দেখিয়ে বোর্ডের ক্রীড়া তহবিল থেকে অগ্রিম উত্তোলন হয়েছে দেড় লাখ টাকা।
বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির উদ্যোগে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) শারীরিক শিক্ষা বিভাগ ও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের যৌথ ব্যবস্থাপনায় গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ৬ অক্টোবর ছিল এর উদ্বোধনী এবং ১০ অক্টোবর সমাপনী অনুষ্ঠান হয়।
সূত্র মতে, কুমিল্লার কর্মসূচিতে অংশ নিতে ৪ অক্টোবর এক অফিস আদেশ জারি করেন রাজশাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান। তার সফরসঙ্গী ছিলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইফফাত জেরীন, কলেজ পরিদর্শক মাহবুব হাসান, বিদ্যালয় পরিদর্শক শামীম হাসান, উপ-পরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) মো. ইব্রাহিম, প্রোগ্রামার মাইনুল অর রশিদ, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (সনদ ও রেকর্ড) মঞ্জুর রহমান খান, উপ-সচিব (ভান্ডার) দুরুল হোদা, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) জাহিদুর রহিম, সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আমিনুল করিম, সহকারী সচিব আওলাদ হোসেন, সহকারী কলেজ পরিদর্শক গোলাম নবী, একান্ত সচিব হাসান আলী ও মোটরযান ক্লিনার রবিউল ইসলাম।
অফিস আদেশের সফরসূচিতে চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন—৫ অক্টোবর রাজশাহী থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়ে ৬ অক্টোবর শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন। ৭, ৮ ও ৯ অক্টোবর কুমিল্লা বোর্ডেই অবস্থান করবেন এবং ১০ অক্টোবর সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে রাজশাহীতে ফিরবেন। তবে বাস্তবে চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে কর্মকর্তারা কুমিল্লা যান। ৬ অক্টোবর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও ৭ অক্টোবর সকালে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে দুটি মাইক্রোবাসে কর্মকর্তারা সাজেকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। তারা দুপুরে সাজেক পৌঁছেন। পরে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘোরেন। এরপর খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে রাত কাটান। জাহিদুর রহিম ফেসবুকে সাজেকে ঘোরাঘুরির ভিডিও পোস্ট করলে এই প্রমোদ ভ্রমণের বিষয়টি জানাজানি হয়। ৮ অক্টোবর খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউস থেকে ঢাকায় পৌছে রাতে বোর্ডের গেস্ট হাউজে থাকেন। পরদিন ৯ অক্টোবর রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হন।
আরও জানা যায়, চেয়ারম্যান ও শীর্ষ কর্মকর্তারা সফরে থাকায় বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রউফকে একাই চেয়ারম্যানের রুটিন দায়িত্ব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, হিসাব ও নিরীক্ষা বিভাগ, বিদ্যালয় এবং কলেজ পরিদর্শকের বাড়তি দায়িত্ব সামলাতে হয়। একসঙ্গে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তিনি হিমশিম খান এবং দাপ্তরিক কাজে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সেবাগ্রহীতারা।
তবে চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী দাবি করেন, তিনি পাহাড় ভ্রমণে যাননি। কুমিল্লা শহরের আশপাশের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা পরিদর্শন করেন। তবে ভ্রমণকারী একাধিক কর্মকর্তা জানান, চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সবাই পাহাড়ে গিয়েছেন।
সাজেকের ভিডিও পোস্ট করা উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জাহিদুর রহিম বলেন, মানুষের কি ব্যক্তিগত জীবন থাকতে পারে না? কেউ কি ঘুরতে যেতে পারবে না?
সরকারি খরচে কর্মকর্তাদের এই ভ্রমণের বিষয়ে রাজশাহী বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুর রউফ বলেন, কুমিল্লা বোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী অংশ নেন। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই কর্মকর্তারা গিয়েছিলেন বলে আমি জানি। তারা কুমিল্লাতেই থাকবেন বলে আমাদের জানানো হয়েছিল; কিন্তু কেউ যদি পাহাড় ভ্রমণে গিয়ে থাকেন, তা আমার অজান্তেই হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে; সন্তোষজনক জবাব না পেলে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
