বিবাহবিচ্ছেদের পর মদ্যপানে আসক্তি, ২৬ দিন পুনর্বাসন কেন্দ্রে ছিলেন ভারতের তারকা ক্রিকেটার

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০১

ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের কারণে কঠিন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল ভারতের লেগ স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহালকে। ধনশ্রী বার্মার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর উদ্বেগ, প্যানিক অ্যাটাক এবং ক্রিকেট থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি। এমনকি অতিরিক্ত মদ্যপানে আসক্ত হওয়ার পর ২৬ দিন পুনর্বাসন কেন্দ্রেও থাকতে হয়েছিল এই তারকা ক্রিকেটারকে।

সম্প্রতি ভারতের সাবেক ওপেনার আকাশ চোপড়ার পডকাস্ট ‘বেইথ অ্যান্ড বল’-এ নিজের কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেন চাহাল। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য তার মানসিক অবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলে জানান তিনি।

পডকাস্টে চাহালের ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় নিয়ে জানতে চান আকাশ চোপড়া। জবাবে চাহাল জানান, সেই সময়ে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা পাশে ছিলেন। মদ্যপানের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত বছর কাউন্টি ক্রিকেট খেলার পর বিষয়টা সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তাই আমি একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি হই এবং সেখানে ২৬ দিন থাকি।’

রিহ্যাবে থাকার সিদ্ধান্ত তার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে বলেও জানান চাহাল। তিনি বলেন, ‘এখন আমি জানি কীভাবে পরিস্থিতি সামলে নিতে হয়। ওই সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে। আমার পরিপক্বতা বেড়েছে, আবেগ এখন ভারসাম্যপূর্ণ। গত আইপিএলে আমার শরীরকে আবার ৩০ বছর বয়সের মতো মনে হচ্ছিল। নিয়মিত জিম, ফিল্ডিং অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ করতে পেরেছি।’

Yuzvendra Chahal Calls RJ Mahvash His 'Spine' Amid Dating Buzz, Says,  'Thank You For Making Me...'

কীভাবে মদ্যপানের অভ্যাস বেড়ে গিয়েছিল, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন চাহাল। তিনি জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তরুণ বয়সে বন্ধুদের সঙ্গে পার্টি করতেন। ২০১১ সালে প্রথমবার আইপিএলে খেলার সুযোগ পান তিনি। সে সময় দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক তারকা এবি ডি ভিলিয়ার্সের কাছ থেকে জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্ব সম্পর্কেও পরামর্শ পেয়েছিলেন।   

এ প্রসঙ্গে চাহাল বলেন, ‘শুরুতে আমি তরুণ ছিলাম। পার্টি হতো। ২০১১ সালে প্রথম আইপিএল খেলি। একবার এবি ডি ভিলিয়ার্স আমাকে বলেছিল, জীবনে ভারসাম্যই মূল বিষয়। কথাটা শুনতে সহজ, কিন্তু বাস্তবে তা নয়।’

বিবাহবিচ্ছেদের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে জানান চাহাল। তিনি বলেন, ‘বিবাহবিচ্ছেদের পর বিষয়টা অতিরিক্ত পর্যায়ে চলে যায়। আমার মানসিক অবস্থাও খুব একটা ভালো ছিল না। বুঝতে পারি, এভাবে চলতে থাকলে যে জিনিসটাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি (ক্রিকেট), সেটাই নষ্ট করে ফেলবো। তাই থামার সিদ্ধান্ত নিই। এখন আমি অনেক বেশি সুখী এবং ভালো অবস্থায় আছি।’

ইত্তেফাক/জেডএইচ