শিক্ষকতায় যোগ দিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:২৫

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও পরামর্শক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। নতুন দায়িত্বে সহমর্মিতাপূর্ণ নেতৃত্ব, সামাজিক সংহতি এবং মানুষের আস্থা বাড়ানোর কৌশল নিয়ে কাজ করবেন তিনি।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ, সমতা, অন্তর্ভুক্তি ও মানুষের সুস্থতা নিয়েও কাজ করবেন আরডার্ন। তিনি অতিথি বক্তৃতা ও বিশেষ ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেবেন। তবে এটি পূর্ণকালীন দায়িত্ব নয়।

নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে আরডার্ন বলেন, বিশ্বের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নেতৃত্বকে কীভাবে আরও ভালোভাবে উৎসাহিত ও সহযোগিতা করা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মার্ক স্কট বলেন, নিউজিল্যান্ডকে বিভিন্ন সংকটের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় আরডর্ন দেখিয়েছেন, সহমর্মিতা ও দৃঢ়তা পরস্পরের বিরোধী নয়; বরং একটি অন্যটিকে শক্তিশালী করতে পারে। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মার্ক স্কটের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। ছবি: স্টেফানি জিংসহাইম/সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়

গত জুলাইয়ে অস্ট্রেলীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরডার্ন বলেন, বিশ্বের অনেক নেতা কর্তৃত্ববাদী ধাঁচের নেতৃত্ব দিলেও মানুষ সহমর্মিতাপূর্ণ নেতৃত্ব চায়। প্রচলিত রাজনীতিতে অসন্তুষ্টির কারণেই অনেক ভোটার মূলধারার বাইরের দলগুলোর দিকে ঝুঁকছেন বলেও মনে করেন তিনি।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে পাঁচ বছরের বেশি সময় নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা ছিলেন আরডার্ন। তার শাসনামলে দেশটি ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলা, হোয়াকারি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও করোনাভাইরাস মহামারির মতো বড় সংকট মোকাবিলা করে।

২০১৭ সালে ৩৭ বছর বয়সে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী সরকারপ্রধান হন আরডার্ন। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সন্তান জন্ম দেওয়া বিশ্বের দ্বিতীয় সরকারপ্রধানও তিনি। রাজনীতি ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জননেতৃত্ব ও প্রযুক্তি পরিচালনাব্যবস্থা নিয়ে ফেলোশিপ করেন। ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয় তার স্মৃতিকথা ‘এ ডিফারেন্ট কাইন্ড অব পাওয়ার’।

দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে স্বামী ক্লার্ক গেফোর্ড ও মেয়ে নেভেকে নিয়ে সিডনিতে বসবাস শুরু করেন আরডার্ন। সেখানে উত্তরাঞ্চলের সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় ৫৩ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারে একটি বাড়িও কিনেছেন তারা।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 
ইত্তেফাক/আরএইচ