সরকার গঠনে বিরোধীদের তৎপরতা, নেতানিয়াহুকে সরাতে ঐক্যবদ্ধ চার দল

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৫২

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির চার বিরোধী দলের নেতা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বৈঠকে তারা দ্রুত জোট গঠনের আলোচনা শুরু এবং নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরুর আগেই সংসদীয় কৌশল ঠিক করার বিষয়ে একমত হন।

তবে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া কীভাবে সরকার গঠন করা সম্ভব, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেননি তারা। বিরোধী শিবিরের কয়েকজন নেতা আগেই আরব দলগুলোকে সরকার গঠনের অংশীদার করতে আপত্তি জানিয়েছেন।

বৈঠকের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকট, বি’ইয়াহাদের চেয়ারম্যান নাফতালি বেনেট, ডেমোক্র্যাটসের প্রধান ইয়ার গোলান এবং ইসরায়েল বেইতেনুর নেতা অ্যাভিগদার লিবারম্যান নেতানিয়াহুর সরকারকে সরাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান। আইজেনকটের প্রস্তাবিত চারটি মূলনীতির ভিত্তিতে কাজ করতেও সম্মত হন তারা।

নীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, দেশটির স্বাধীনতার ঘোষণায় উল্লেখিত মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা নিশ্চিত করা। এ ছাড়া হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে গাজায় সংগঠনটির সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস এবং তাদের শাসনের অবসান ঘটানোর অঙ্গীকার করেছেন বিরোধী নেতারা।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। ৭ অক্টোবরের হামলার পর ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহু সরকারকে সরিয়ে জাতীয় জরুরি সরকার গঠন এবং পার্লামেন্টে বিদ্যমান সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগাতে তারা অবিলম্বে উদ্যোগ নেবেন।

গত সপ্তাহের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তবে আসনসংখ্যার হিসাবে সরকার গঠনের সমীকরণ এখনো বিরোধীদের অনুকূলে আসেনি। নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন, আর বিরোধী ইহুদি দলগুলোর আসন ৪৮টি। অন্যদিকে, আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া বিরোধীদের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছ থেকে সরকার গঠনের প্রথম ম্যান্ডেট আইজেনকটের পাওয়ার পক্ষে সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিরোধী নেতারা। পাশাপাশি জোট গঠনের চুক্তি ও নীতিগত রূপরেখা তৈরির কাজ দ্রুত শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

নির্বাচনের ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বৈধতা নিয়ে নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদের প্রচারেরও সমালোচনা করেছেন বিরোধী নেতারা। তাদের ভাষায়, এই প্রচার বিপজ্জনক ও বেপরোয়া। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।

এদিকে, হিব্রু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেসেটের বর্তমান স্পিকার আমির ওহানার পরিবর্তে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পিকার পদে বি’ইয়াহাদের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়ার লাপিদকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী সোমবারের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।

ইত্তেফাক/এবিএস