দিনাজপুরের মাতাসাগর দীঘির ৪৫ একর জমির স্বত্ত্ব ব্যক্তি মালিকানায় প্রদান সংক্রান্ত রায় বাতিল চেয়ে সরকারের করা আপিল দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের পক্ষে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুল ইসলাম এই আবেদন করেন।
এ প্রসঙ্গে সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী বশির আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, এটা সরকারের সম্পত্তি। দিনাজপুরের যুগ্ম জেলা জজ আদালত এক রায়ে সম্পত্তিটি ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তর করে।
তিনি বলেন, ২০০৪ সালে এই সম্পত্তি নিয়ে মামলা হলে ২০০৫ সালে রায় হয়। এত অল্প সময়ে রায় ঘোষণাটি ছিল অনভিপ্রেত। এই রায়ের পর হাইকোর্টে আপিল হলে মামলার অ্যাক্সিবিট (প্রদর্শিত নথিপত্র) না থাকায় মামলটা প্রস্তুত হচ্ছে না। দিনাজপুরের ডিসির প্রতিনিধি হিসেবে সেখানকার এসিল্যান্ড এসে এফিডেভিট করেছেন দ্রুত সময়ে আপিলটি শুনানি করার জন্য। এখন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা এ বিষয়ে নথিপত্র প্রস্তুত করবে।
আরও পড়ুন : রশিদ-জহিরের ঘূর্ণিতে কাবু বাংলাদেশ
দিনাজপুরের মাতাসাগরের প্রায় ৪৫ একর খাসজমি ১৯৮১ সালে বরাদ্ধ দেয়া হয় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাবার মালিকানাধীন দিনাজপুর লাইভস্টক অ্যান্ড পোলট্রি ফার্মের নামে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বন্দোবস্তের মাধ্যমে বরাদ্ধটি নেয়া হয়। বন্দোবস্ত নিয়ে খালেদা জিয়ার বাবা এমই মজুমদার ওই ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং তার মা তৈয়বা মজুমদার পরিচালক হিসেবে ভোগদখল করতে থাকেন।
খালেদা জিয়ার বাবার মৃত্যুর পর তার ভাই, বোন এবং একপর্যায়ে তার মা পোলট্রি ফার্মের ব্যবসায়িক শেয়ার বিক্রি করে দেন। সর্বশেষ ওই পোলট্রি ফার্মের শেয়ারের মালিকানা দাঁড়ায় বিএনপি নেতা চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত ফজলুর রহমান পটল ও তার ভাই মিজানুর রহমানের নামে।
২০০৪ সালে খাস জমিটি সরকারের নামে রেকর্ড হয়েছে জানতে পেরে নিজেদের নামে স্বত্ব ঘোষণার দাবিতে দিনাজপুরের আদালতে মামলা করেন মিজানুর রহমান ও তার ভাই। ২০০৫ সালের ১১ এপ্রিল ওই জমির স্বত্ব তাদের দুজনের নামে ঘোষণা করে রায় দেয় দিনাজপুরের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালত।
কিন্তু ওই রায়ের বিরুদ্ধে যথাসময়ে আপিল করেনি তৎকালীন সরকার। পরে ২০০৮ সালে আপিলটি করা হয়। সরকারের করা ওই আপিল আবেদনে বলা হয়, নালিশি জমিটি সরকারের এক নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত। স্বত্ব ঘোষণার মামলাকারীরা সরকারের জমিটি শুধু অবৈধ দখলের জন্য এ মামলা করে। কিন্তু বিচারক তা বুঝতে ব্যর্থ হয়ে ভুলভাবে ওই রায় এবং ডিক্রির আদেশ দেন। আপিলে মামলার নথি তলব ও যুগ্ম জেলা জজ আদালতের রায় বাতিল চাওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/কেআই

