ভুয়া চিকিৎসকের হাতে স্তন কাটা শেফালি এখন হাসপাতালে

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৫১

টিউমার অপারেশনের নামে ভুয়া এক চিকিৎসক স্তন কেটে ফেলায় অসুস্থ শেফালি আক্তারকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় শনিবার রাত ৯ টায় ওই হাসপাতালের ১০ নং সার্জারি বিভাগে তিনি ভর্তি হন। এ ঘটনায় ভুয়া চিকিৎসক মানিক তালুকদারকে (৪৫) পুলিশ আটক করে জেলহাজতে পাঠায়। দিন মজুর শেফালি আক্তার নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার পাঁচহাট গ্রামের মৃত সাব্বির মিয়ার স্ত্রী। তার  ৩ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে।

আরও পড়ুন: সাভারে আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

শেফালী আক্তার জানান, তার বাম স্তনে সমস্যা ছিল। বিষয়টি জেনে নেত্রকোনার মদন উপজেলার কাতলা গ্রামের আমির উদ্দিন তালুকদারের ছেলে মানিক তালুকদার (৪৫) বড় চিকিৎসক সেজে তাকে অজ্ঞান করে ব্লেড দিয়ে বাম স্তন কেটে ফেলেন। এর আগে মানিক তালুকদার জানায় স্তনে টিউমার হয়েছে, না কাটলে ক্যান্সার হতে পারে।

তিনি আরও জানান, এর আগে ক্যান্সারের ভয় দেখিয়ে মানিক তালুকদার ২০ হাজার টাকাও হাতিয়ে নেয়। পরে তিনি খালিয়াজুরীর পাঁচহাট বাজারের ইকবাল হোমিও হলে তার ওই স্তনটি কেটে ফেলেন। সেই থেকে স্তনে পুঁজ ও রক্ত ঝড়ছে। অর্থাভাবে তিনি চিকিৎসা করাতে পারছে না।

প্রায় দুই মাস আগে স্তন কেটে নেওয়ার ঘটনায় ১০ সেপ্টেম্বর মানিক তালুকদারকে একমাত্র আসামি করে একটি মামলা করেছেন বলেও জানান ওই শেফালি।

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএইচএম আরিফুল ইসলাম জানান, প্রায় দু’মাস আগে এ ঘটনা ঘটে। শেফালি আক্তার অর্থাভাবে কাটা স্তনের চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। বিষয়টি জেনে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলামের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসন তার চিকিৎসা করানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তাকে শনিবার রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খালিয়াজুরী থানার ওসি এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, মামলা করার পরের দিনই মানিক তালুকদাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সে একজন ভুয়া চিকিৎসক। গ্রেফতারের পর পর মানিক তালুকদার নিজেকে হোমিও ডাক্তার হিসাবে পরিচয় দেন। তার কাছে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান,  মানিক নিজেকে মা ও শিশু, চর্ম ও যৌন এবং সার্জারিতে বিশেষ অভিজ্ঞ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন।

ইত্তেফাক/এমআরএম