জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের পূর্বনির্ধারিত আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। এ অবস্থায় ১ অক্টোবরের মধ্যে উপাচার্যকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। পদত্যাগ না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা। তবে ভর্তি পরীক্ষায় কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি করা হবে না বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে চার ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ আলোচনা কোনো আলোর মুখ দেখেনি। ফলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আলোচনা শেষ না করেই নতুন কলা ভবনের কাউন্সিল কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা। পরে নতুন কলা ভবন প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলনে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন জানান, ‘টেন্ডার ছিনতাইয়ের বিচার না করা, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, কমিশন কেলেংকারি, চাঁদা দাবির বিষয়টি পাঁচ মাস গোপন রাখা, টাকা ভাগবাঁটোয়ারার ঘটনায় জড়িতদের সরাসরি স্বীকারোক্তি—এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মনে করি, উপাচার্য ফারজানা ইসলাম পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। আমরা তাকে পদত্যাগ করা জন্য আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিচ্ছি।’
এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত ও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবনে অবাঞ্ছিত ও সর্বাত্মকভাবে প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন তারা। যেসময় পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করবেন না ততক্ষণ পর্যন্ত এই প্রত্যাখ্যান চলবে।
আলোচনা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা আমার পদত্যাগ দাবি করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেকহোল্ডার তো শুধু তারাই নন। যদি সবাই মনে করেন, আমি নৈতিক অবস্থান হারিয়েছি তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। উপাচার্য হিসেবে আমার নিজেকে পরিচ্ছন্ন করার সুযোগ আছে। সেটা আমি ইউজিসিকে বলবো যেন তারা একটা তদন্ত করেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি চাইলেই তো আর পদত্যাগ করতে পারি না। তাদের পদত্যাগের দাবিতেও যদি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে এখানে থাকার নির্দেশ দেন তাহলে আমাকে গালমন্দ খেয়েও থাকতে হবে।’
এর আগে বিকাল সাড়ে ৪টায় নতুন প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে আলোচনা শুরু হয়। এতে প্রশাসনের পক্ষে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), কোষাধ্যক্ষসহ সাত জন এবং আন্দোলনকারীদের পক্ষে আট জন শিক্ষকসহ ২২ জন অংশ নেন।
এদিকে জাবি উপাচার্যের কাছ থেকে কোটি টাকার ভাগ পাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে স্বীকার করা শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নিয়ামুল হোসেন ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন নিরাপত্তার অজুহাতে গত মঙ্গলবার রাতে ক্যাম্পাস ছেড়ে গেছেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের অতিথি কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানান সাদ্দাম হোসেন।
ইত্তেফাক/এমআরএম
