জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকে অনুপস্থিত থাকায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। তবে দুর্নীতির অভিযোগ উপাচার্য ও তার পরিবারের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে হওয়ায় সমঝোতা বৈঠকে যাননি, বলে দাবি করেন অধ্যাপক আমির হোসেন। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কার্যালয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব লিখিত আকারে জমা দেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেন। উপাচার্যের পক্ষে লিখিত জবাব গ্রহণ করেন সহকারী রেজিস্ট্রার তফাজ্জল হোসেন। যার একটি কপি সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের কাছে এসেছে।
নোটিশের জবাবে অধ্যাপক আমির হোসেন বলেন, ‘আপনার কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়ে অবাক ও অপমানিত হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট অনুযায়ী, উপ-উপাচার্যকে লিখিত কারণ দর্শানোর পত্র পাঠানোর এখতিয়ার আপনার নেই। কারণ দর্শানোর নোটিশে যে সভার কথা উল্লেখ করেছেন, তা মূলত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সমঝোতা চেষ্টার একটি বৈঠক ছিল। উক্ত সভায় উপ- উপাচার্যের (প্রশাসন) উপস্থিতি বাধ্যতামূলক ছিল বলে যে দাবি করেছেন তা নিতান্তই আপনার মনগড়া। বাধ্যবাধকতার বিষয়ে কোন অফিস আদেশের কথা আমার জানা নেই।’
আরও পড়ুন : একইদিনে ভারতীয় হাইকমিশনারের মসজিদ-মন্দির পরিদর্শন
তিনি আরো বলেন, ‘প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের প্রথম বৈঠকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত দুটি দাবি মেনে নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এই দুটি দাবির বিষয়ে সমঝোতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। তাই আমি এই বৈঠকে সাধ্যমতো ভূমিকা পালনের চেষ্টা করেছি। এছাড়া আন্দোলনকারীদের বাকি যে দাবিটি তা উপাচার্য ও তার পরিবারের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সংশ্লিষ্ট। এমন অভিযোগে আমরা সকলেই বিব্রত। অভিযোগ যেহেতু ব্যক্তিকেন্দ্রিক, তাই এ বিষয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করাটাও একান্ত ব্যক্তিগত। সেজন্য উক্ত বৈঠকে আমার কিছু বলার ছিলো না বলে মনে করেছি।
অধ্যাপক আমির আরো বলেন, ‘উপাচার্য চেয়েছিলেন, আমি যেন দায়িত্ব নিয়ে তাকে নির্দোষ বলি। যৌক্তিক কারণে আমি এই কথা বলিনি। এর ফলে আপনি (উপাচার্য) এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়ে আমাকে অপমানিত করার চেষ্টা করছেন।’
এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ইত্তেফাক/কেআই
