গদি ছাড়তে নারাজ বশেমুরবিপ্রবির ভিসি

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:০৯

নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করে বসেছিলেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ভিসি অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভিসি পতনের আন্দোলন ১১ দিন ধরে অব্যাহত থাকলেও ক্যাম্পাস ছাড়ার কথা মোটেও ভাবতেন না তিনি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত কমিটি তাকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেলেই পাল্টে যায় সব।

এরপর বিভিন্ন গুঞ্জন কাটিয়ে অবশেষে রবিবার রাত ৯ টায় সাধের বাসভবন ছেড়ে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে বাধ্য হন এই ভিসি। নিতে হয়েছে পুলিশের প্রটোকল। ক্যাম্পাস ছাড়ার সময়ে শিক্ষার্থীদের ধিক্কারে প্রকম্পিত হয়েছে ৫৫ একর।

তবে ভিসির ক্যাম্পাস ত্যাগের বিষয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, তার অসুস্থতার কথা আমাদের জানানো হয়েছে। ডাক্তার দেখানোর জন্য সম্ভবত তিনি ক্যাম্পাস ছেড়েছেন। কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্তিতি এড়াতে  পুলিশ প্রটোকল নেওয়া হয়েছিল।

এদিকে খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ। তিনি চেয়েছিলেন ভিসি হিসেবে নিজের ইচ্ছামতো বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে সারা জীবনের পাথেয় গুছিয়ে নিবেন। সেজন্য ছিলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। নিয়োগ দিয়েছেন নিজ পরিবারের ২০ জনের অধিক আত্মীয়-স্বজনকে। এর মধ্যে নিজের ভাগ্নী জামাই এবং ভাতিজাকে করেছেন শিক্ষক।

বিগত ৫ বছরে অতিরিক্ত মূল্যে ভর্তি ফরম বিক্রি করে লোপাট করেছেন প্রায় ২০ কোটি টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েই প্রথমে 'ভিসি কোটা' চালু করে শিক্ষাথী ভর্তির মাধ্যমে 'বাণিজ্য' শুরু করেন। পরে চাপের মুখে তিনি ভিসি কোটাকে 'বিশেষ কোটা'য় পরিণত করে শিক্ষার্থী ভর্তির নামে কোটি কোটি টাকা লুটে নেন। 

কিন্তু সকল কিছু ঠিকমতো চললেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দমিয়ে রাখতে পারেননি। বারবার অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করে থামিয়ে দিয়েছেন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী ও দ্যা ডেইলি সানের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে অন্যায়ভাবে সাময়িক বহিষ্কার করে নিজের পায়ে নিজেই কুড়ালের আঘাত বসান। ফুঁসে উঠে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ব বিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা।

নিজ ক্যাম্পাসের সাংবাদিকদের দমাতে লালিত পেটোয়া বাহিনী দিয়ে চালিয়েছেন হামলা। ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের হুমকি প্রদান করেছে ভিসির নিজের হাতে গড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি। আলোচনার নাম করে ফোন কেড়ে নিয়ে জোর করিয়ে অন্যায়কে স্বীকার করাতে বাধ্য করেছেন। তারপরও চাপা থাকেনি অন্যায়।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরু থেকেই একের পর এক প্রকাশিত হতে থাকে এই ভিসির সকল অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, নৈতিক স্খলনসহ বিভিন্ন অপকর্ম। এত কিছুর পরেও গদি ছাড়তে নারাজ ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন। তার বিরুদ্ধে ওঠা নৈতিক স্খলনের অভিযোগকে মাঝে মধ্যে তিনি জেনেটিকাল সমস্যা বলেও মানুষের হাস্যরসের জোগান দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: শিক্ষার্থী নির্যাতনে ঢাবির ১ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনে ভিসিকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে বলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে আন্দোলনকারীরা জানান, ভিসির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

ইত্তেফাক/নূহু