নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ‘ডাকাত সাজিয়ে’ কিশোর শামছুদ্দিন মিলনকে (১৬) পিটিয়ে হত্যা মামলার আসামি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আকরাম উদ্দিন শেখকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার জেলার ৪ নম্বর আমলি আদালতে এসআই আকরাম উদ্দিন আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নবনীতা গুহ তার জামিন না নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: আবরার হত্যা মামলা পরিচালনায় পৃথক প্রসিকিউশন টিম হবে: আইনমন্ত্রী
জানা যায়, ২০১১ সালের ২৭ জুলাই কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর কাঁকড়া এলাকায় ডাকাত সাজিয়ে কিশোর শামছুদ্দিন মিলনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।এর আগের রাতে চর কাঁকড়া পাশ্ববর্তী এলাকায় একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে মিলন তার বাড়ি চরফকিরা থেকে খালার বাড়ি চর কাঁকড়ায় গেলে তাকে ডাকাত সাজিয়ে আটক করে মারধর করে এলাকার লোকজন। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হলে পুলিশ গাড়িতে করে এনে জনতার হাতে ছেড়ে দেয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে মিলনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনার পর ওই বছরের ৩ আগস্ট মিলনের মা কোহিনুর বেগম আদালতে একটি পিটিশন মামলা করেন। মামলায় তিনি পুলিশের উপস্থিতিতে তার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ করেন। অভিযোগটি আদালত থেকে তদন্তের জন্য কোম্পানীগঞ্জ থানায় পাঠানোর পর প্রথমে থানা-পুলিশ ও পরে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে সাক্ষ্য প্রমাণের অভাব দেখিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে আদালতে। এ অস্থায় মামলার বাদী মিলনের মা কোহিনুর বেগম আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন। পরে ৫ নভেম্বর জেলার ২ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা ভূঁইয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। সিআইডি দীর্ঘ তিন বছর ৪ মাসের তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দিলেও পুলিশকে বাদ দিয়ে গত ৯ মার্চ আদালতে ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর আদালত মামলার নথি পর্যালোচনা করে অভিযোগপত্রের সাক্ষীর তালিকায় থাকা পুলিশের এসআই আকরাম উদ্দিন শেখকে আসামি করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, একই আদালতে আজ এসআই আকরাম উদ্দিন ও মঙ্গলবার ১০ জন আসামি আত্মসমর্পণ করলে তাদেরও জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত। এই মামলায় ৮জন আসামি ইতিপূর্বে গ্রেফতার হওযার পর তারা জামিনে রয়েছেন। অপর ৯জন আসামি পলাতক রয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআরএম
