ঢাকা শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
২৮ °সে

৮২ কোটি টাকার বই বিক্রি

শেষ হলো একুশে গ্রন্থমেলা
৮২ কোটি টাকার বই বিক্রি
অমর একুশে বইমেলার শেষ দিন গতকালও ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড় -ইত্তেফাক

বাংলা একাডেমির হিসাবে বইমেলায় বিক্রির রেকর্ড দেখানো হলেও হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানই এবার বইমেলায় গত বছরের তুলনায় কম বলে জানিয়েছে। বাংলা একাডেমি জানাচ্ছে, রেকর্ড পরিমাণ বই বিক্রি হয়েছে এবারের বইমেলায়।

সুন্দর ছিমছাম পাঠকবান্ধব বইমেলা আয়োজনের কারণেই এমনটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে তারা। এ বছর বাংলা একাডেমির হিসাবে বই বিক্রি হয়েছে ৮২ কোটি টাকা। গত বছর মেলায় ৩০ দিনে ৮০ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। ২০১৮ সালের মেলায় বই বিক্রি হয়েছিল ৭০ কোটি টাকার। ২০১৭ সালে বিক্রি হয়েছিল ৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা, ২০১৬ সালে ৪২ কোটি, ২০১৫ সালে বই বিক্রি হয়েছিল প্রায় ২২ কোটি টাকা। আর ২০১৪ সালে মাস জুড়ে বই বিক্রি হয়েছিল মাত্র সাড়ে ১৬ কোটি টাকা।

আর নতুন বই প্রকাশের ক্ষেত্রে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এবার নতুন বই এসেছে ৪ হাজার ৯১৯টি। তবে এ হিসাব বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্রে জমা পড়া বইয়ের। এর বাইরেও মেলায় নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর, বাংলা একাডেমির বিচারে মানসম্পন্ন বইয়ের সংখ্যা ৭৫১টি। গতকাল শনিবার অমর একুশে গ্রন্থমেলার সমাপনী দিনে বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এ বছর সর্বোচ্চ বই প্রকাশিত হয়েছে কবিতার। যা সংখ্যার হিসাবে ১ হাজার ৫৮৫টি। এ ছাড়া এ বছর গল্প ৬৪৪, উপন্যাস ৭৩১টি, প্রবন্ধ ২৭১টি, গবেষণা ১১২, ছড়া ১১১, শিশুতোষ ২০৩টি, জীবনী ১৪৯, রচনাবলি ৮, মুক্তিযুদ্ধ ১৫২, নাটক ৩৪, বিজ্ঞান ৮৩, ভ্রমণ ৮২, ইতিহাস ৯৬, রাজনীতি ১৩, স্বাস্থ্য ৩৬, রম্য ৪০, ধর্মীয় ২০, অনুবাদ ৫৭, অভিধান ১৪, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ৬৭, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক ১৪৪ এবং বিবিধ বিষয়ে বই এসেছে ২৬৮টি।

বইমেলার শেষ দিনে মেলায় ছিল জনস্রোত। এদিন মেলা শুরু হয় বেলা ১১টায়। চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। দুপুর ১টা পর্যন্ত মেলায় ছিল শিশুপ্রহর। এদিন মেলার শুরু থেকেই লোকসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। বিকালের দিকে মেলা রূপ নেয় জনস্রোতে। ছিল হাতে হাতে বই। অনেকে শেষ সময়ে এসে তাদের পছন্দমতো বই কিনেছেন। অনেকে আবার শেষ দিনে মেলায় ছুটে এসেছেন শুধু বইয়ের টানে।

আরও পড়ুনঃ আইইবি প্রেসিডেন্ট নুরুল, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ

কথাশিল্পী সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবারের বইমেলা আয়োজন প্রসঙ্গে বলেন, এবারের মেলার মানহীন প্রকাশনা সংস্থার আধিক্য রয়েছে। এ ধরনের প্রকাশনা সংস্থাকে মেলা থেকে বাদ দিতে হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় স্টল বরাদ্দ না দেওয়ার বিষয়ে বাংলা একাডেমিকে কঠোর হতে হবে। মেলা যদি শুধু ভালো প্রকাশকদের নিয়ে হয়, তাহলে মেলার পরিবেশ এবং বইয়ের বিক্রি দুটোই ভালো হবে। প্রকাশক নয়, এমন বিক্রেতারা যদি নেট ও পাইরেটেড বই এবং অননুমোদিত বিদেশি লেখকদের বই নিয়ে মেলায় আসে সেক্ষেত্রে প্রকৃত প্রকাশকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি পাঠকরাও প্রতারিত হয়। বিশাল পরিসরের মেলা করার চাইতে গোছানো ও নিয়মতান্ত্রিক মেলা করাটাই বাঞ্ছনীয়।

জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি এবং সময় প্রকাশনের প্রকাশক ফরিদ আহমেদ বলেন, আয়তন, নকশা কিংবা সাজসজ্জার বিবেচনায় এবারের মেলাটি ছিল নান্দনিক। তবে এর মাঝে কিছু ত্রুটিও ছিল। মেলার আয়তন বাড়ানো হলেও প্রবেশ ও বাহির পথ কম ছিল।

ইত্তেফাক/ এমএএম

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
৩০ মে, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন