২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি হত্যা করা হয়েছিল লেখক অভিজিত্ রায়কে। একই বছর ৩১ অক্টোবর বিকালে শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে হত্যা করা হয় জাগৃতির প্রকাশক ফয়সল আরেফীন দীপনকে এবং শুদ্ধস্বরের আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুলকে আহত করে মৌলবাদী গোষ্ঠী। তাদের হত্যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার মুক্তবুদ্ধির মানুষ। তাদের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ। এর আগে এই মেলা থেকে ফিরবার পথেই আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন লেখক হুমায়ুন আজাদ। অথচ বইমেলার কোথাও তাদের অস্তিত্ব নেই। কোনো প্রকাশক, মেলা কর্তৃপক্ষ তাদের স্মরণ করছেন না। মেলা মঞ্চেও তাদের স্মরণে কোনো আলোচনা হতে দেখা যায় না কখনো।
ফয়সল আরেফীন দীপনের প্রতিষ্ঠা করা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জাগৃতির স্টলে দীপনের একটি ছবি আছে। সেখানেই তার পরিবার বন্ধুরা স্মরণ করেন তাকে। প্রতিবছর আগামী প্রকাশনীর উদ্যোগে মেলা মাঠে স্মরণ করা হয় হুমায়ুন আজাদকে। অভিজিেক স্মরণ করবার কেউ নেই। সত্যিকার অর্থে পরিবারের বাইরে আর কেউ তাদের স্মরণ করেন না। অথচ মুক্তচিন্তা ও কাজের জন্যই হত্যা করা হয়েছে তাদের। অথচ অমর একুশে বইমেলায় কেউ তাদের কথা বলে না।
এ প্রসঙ্গে কবি মাকিদ হায়দার বললেন, আমরা বিস্মৃতিপ্রবণ জাতি। একজন মানুষ হারিয়ে গেলে ভুলতে সময় নেই না। অভিজিত্, ফয়সাল আরেফিন দীপনের জন্য একটা শোক বই থাকতে পারতো মেলা প্রাঙ্গণে। সবাই নিজের মনের অনুভূতির কথা বলতেন। সম্মান জানানো যেতো এভাবে। তাছাড়া, তাদের স্মরণ করে মেলামঞ্চে আলোচনাও হতে পারে। বাংলা একাডেমি তো এই উদ্যোগটা নিতেই পারে।
লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন মোস্তফা হোসেইন, তারেক রেজা, নাহিদ কায়সার, তুষার কবির এবং সৈয়দ জাহিদ হাসান।
গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা
বাংলা একাডেমি পরিচালিত চারটি গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা করা হয় গতকাল। ২০১৮ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য কথাপ্রকাশকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০১৯, ২০১৮ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থ বিভাগে গোলাম মুরশিদের বিদ্রোহী রণক্লান্ত : নজরুল-জীবনী গ্রন্থের জন্য প্রথমা প্রকাশনকে, মঈনুদ্দীন খালেদের মনোরথে শিল্পের পথে গ্রন্থের জন্য জার্নিম্যান বুক্সকে এবং মারুফুল ইসলামের মুঠোর ভেতর রোদ গ্রন্থের জন্য চন্দ্রাবতী একাডেমিকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৯ প্রদান করা হয়। ২০১৮ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডকে রোকনুুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০১৯ এবং ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মধ্যমা (এক ইউনিট), বাতিঘর (বহু ইউনিট), পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি. (প্যাভেলিয়ন)-কে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৯ প্রদান করা হয়। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯-র সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব পুরস্কার পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে তুলে দেয়া হবে।
বাংলাদেশের অনুবাদ সাহিত্যের চালচিত্র
গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের অনুবাদ সাহিত্যের চালচিত্র শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, আনিসুর রহমান, আলম খোরশেদ এবং রাজু আলাউদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন হাবীবুল্লাহ সিরাজী। অনুষ্ঠানের শুরুতে চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের স্মরণে ঘোষিত জাতীয় শোক দিবস-এর অংশ হিসেবে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং আজকের নির্ধারিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়।
আরও পড়ুন: বড় দুর্নীতিবাজদের আগে ধরতে হবে
হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, আমাদের অনুবাদ সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে হলে এর সংখ্যা যেমন বাড়াতে হবে তেমনি এর গুণগত মানের উন্নয়নও ঘটাতে হবে। এজন্য বিদেশি ভাষার সাহিত্যকে আমরা বাংলা ভাষার গুণগত মান বজায় রেখে অনুবাদের উদ্যোগ নেব।
ইত্তেফাক/আরকেজি

