ডিভোর্সের পর ত্রিভুজ প্রেমের বলি সুজন

৯ বছর পর উদঘাটন হলো হত্যা রহস্য
ডিভোর্সের পর ত্রিভুজ প্রেমের বলি সুজন
গ্রেফতাকৃত মো. ফজলু ওরফে কুটি।ছবি: ইত্তেফাক

দীর্ঘ ৯ বছর পর চাঞ্চল্যকর সুজন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই)। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মো. ফজলু ওরফে কুটিকে (৪২) রাজধানীর মুগদা থানাধীন জান্নাতবাগ এলাকা থেকে সোমবার গ্রেফতার করে পিবিআই। এর আগে এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়, আছমা আক্তার ইভা, মো. আরিফুল হক ওরফে আরিফ ও মো. রানা ওরফে বাবুকে।

পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) ইউনিট ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওসমান গনি জানান, ত্রিভুজ প্রেমের ঘটনায় ২০১১ সালের ১৪ মে সুজনকে খুন করে লাশ সবুজবাগ থানাধীন দক্ষিণ রাজারবাগ বাগপাড়া শেষমাথা খালে গুম করা হয়। ঘটনার ৪ দিন পর লাশ ভেসে উঠলে পুলিশ উদ্ধার ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মর্গে সুজনের লাশ শনাক্ত করেন তার বাবা আব্দুল মান্নান ও মা হাফসা বেগম। সুজনের বাবা বাদী হয়ে সবুজবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি ডিবি দীর্ঘ ৭ বছর তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তথাপিও ঘটনার প্রকৃত রহস্য ও ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত পলাতক আসামি আছমা আক্তার ইভা, মো. আরিফুল হক ওরফে আরিফ ও মো. রানা ওরফে বাবু গ্রেফতার না হওয়ায় এবং পুর্নাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। উক্ত অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে ভিকটিমের বাবা না-রাজির আবেদন করেন। আদালত পিবিআইকে মামলাটি তদন্ত করার নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন: মধুখালীতে রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের ওয়াল ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওসমান গনি আরও বলেন, ২০০৮ সালে ভিকটিম সুজনের সাথে ইভার বিয়ে হয় এবং ২০০৯ সালে ইভা সুজনকে ডিভোর্স দেয়। ডির্ভোস দেওয়ার পরও সুজন প্রায় সময় ইভাকে দেখার জন্য তাদের এলাকায় আসা যাওয়া করতো। এদিকে ইভার সাথে সুজনের বিয়ে হওয়ার পূর্বেই স্থানীয় ছেলে ফাইজুল ইভাকে পছন্দ করতো। ফাইজুলের সাথে ইভার বড় ভাই আরিফ বন্ধুর মতো চলাফেরা করতো। ফাইজুল বিভিন্ন সময় ইভাদের বাসায় আসা যাওয়া করতো। এই ঘটনা নিয়ে ফাইজুল এবং ইভার বড় ভাই আরিফ ও সুজনের মধ্যে বিভিন্ন সময় তর্কবিতর্ক ও হাতাহাতি হয়। সুজনকে হত্যার ৭-৮ দিন পূর্বে ফাইজুল সুজনকে মারধর করে। ২০১১ সালের ৩ মার্চ আরিফুল হক, ফাইজুল তাদের বন্ধু কুটি ও কালা বাবু দক্ষিণ রাজারবাগের বাগপাড়ায় ইভাদের বাসার সামনে মাঠে বসে সুজনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। তাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১১ সালের ১৪ মার্চ সন্ধ্যায় আরিফ, কালা বাবু, ফাইজুল ও কুটি একটি পলিথিন ব্যাগ ও লাঠি নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। এরপর কুটি ভিকটিম সুজনকে ডেকে আনে বাগপাড়া খালপাড় বালুর মাঠে। বিভিন্ন কথাবার্তার একপর্যায় ফাইজুল সুজনকে পেছন থেকে হাত দুইটি আটকে ধরে। কুটি পলিথিন ব্যাগ নিয়ে সুজনের মাথার ওপর থেকে গলায় ঢুকিয়ে দিয়েই গলার মধ্যে প্যাঁচ দিয়ে গিট দিয়ে ফেলে। পরে সবাই মিলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা কওে সুজনকে। পরে তারা লাশ পাশেই খালে ফেলে দেয়। কুটি এবং কালা বাবু খালের নিচে নেমে সুজনের লাশ পানিতে ভাসিয়ে দেয়।

আদালতের নির্দেশে এই মামলার তদন্তভার পিবিআইতে দেওয়ার পর আছমা আক্তার ইভা, মো. আরিফুল হক ওরফে আরিফ ও মো. রানা ওরফে বাবুকে গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্য থেকে পুলিশ মূল অভিযুক্ত মো. ফজলু ওরফে কুটিকে (৪২) গ্রেফতার করে।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত