কলামিস্ট ও সম্পাদক জব্বার হোসেনের জন্মদিন আজ

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:২০

আজ (৩০ জানুয়ারি) জনপ্রিয় কলামিস্ট ও সম্পাদক জব্বার হোসেনের জন্মদিন। সম্পাদক হিসেবে তিনি পরিচিতি পান ‘সাপ্তাহিক কাগজ’ এর মাধ্যমে। বিসিডিজেসি কর্তৃক নাঈমুল ইসলাম খান প্রকাশিত মিডিয়া জার্নাল ‘মিডিয়াওয়াচ’ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসাবে এবং দৈনিক আমাদের অর্থনীতির উপ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তবে সাংবাদিকতার শুরু সাপ্তাহিক ২০০০ এর মাধ্যমে, শাহাদত চৌধুরীর হাত ধরে। সাপ্তাহিক ২০০০-এ সহকারী সম্পাদক এবং সাপ্তাহিক-এ সহযোগী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সেই প্রথম বর্ষ থেকেই নিজেকে লেখালিখির সাথে জড়িয়ে নেন তখনকার বেশ জনপ্রিয় ডেইলি স্টারের ম্যাগাজিনে প্রথম সহকারী সম্পাদক হিসেবে সাংবাদিকতার পথচলা শুরু করেন কলামিস্ট ও সম্পাদক জব্বার হোসেন। সাংবাদিকতার জগতে নিজের অবস্থা অনেকটা বেশ শক্ত পোক্ত করে নিয়েছিলেন তিনি, এর ফলে খুব অল্প বয়সেই অর্জন করেন সপ্তাহিক কাগজে সম্পাদকের পদ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'পূর্ব কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই এত বড় পর্যায়ে নিজেকে ভাবা অনেক চ্যালেঞ্জের বিষয় ছিল এবং একসময় কাজ করতে করতেই সেই দক্ষতাও অর্জন করি'।

এর পাশাপাশি সে সময় নাগরিক টিভির জন্য কিছু অনুষ্ঠানমালার দৃশ্য ধারণ এর কাজ করেন জব্বার হোসেন এবং আরো তিনটি নিউজ ওয়েব পোর্টাল নাইমুল ইসলাম খান এর 'আমাদের অর্থনীতি', 'আমাদের সময় ডটকম' এবং 'ডেইলি আওয়ার চাইল্ড' এর সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৬ সালের দিকে কিছু করার চিন্তা থেকেই ওয়েব পোর্টাল ' সারাবেলা'-র কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি বলেন, 'আমাদের মূল উদ্দেশ্য এই প্রজন্মের তরুণদের কাছে পৌঁছানো, সঠিক দিক নির্দেশনায় পরিচালিত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তাদেরকে উজ্জীবিত করা'।

'সুচিন্তায়' আয়োজিত বেশ আলোচিত দুটি অনুষ্ঠান 'জাগো তারুণ্য ও রুখো জঙ্গিবাদ' শিরোনামে অনুষ্ঠান দুটি বেশ আলোড়ন তৈরি করে তরুণদের মাঝে এবং দেশের মানুষের কাছে। এছাড়াও 'সুচিন্তায়' ও 'আজ সারাবেলা'-র ওয়েব পোর্টালে 'বঙ্গবন্ধু'র গল্প' ও 'মুক্তিযুদ্ধের গল্প' অনুষ্ঠান দুটি  সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করে। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তরূণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেন যুদ্ধের সঠিক ইতিহাস।

'রুখো জঙ্গিবাদ' শিরোনামে অনুষ্ঠানের জন্য তিনি অর্জন করেন 'জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবদানের জন্য বিশেষ পুরস্কার'। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়াও ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেয়েছেন সাংবাদিকতার জন্য পুরস্কার। এছাড়াও নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ও তাকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেছে।

জব্বার হোসেনের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাজীবণ কাটে নটরডেম কলেজ, সরকারি বিজ্ঞান কলেজে। পরবর্তীতে ইংরেজি সাহিত্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও রচনা কৌশলের ওপর অর্জন করেছেন এমফিল ডিগ্রি। জব্বার হোসেনের বাবা গণপূর্ত বিভাগের সাবেক সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্বে ছিলেন।

তিনি অনলাইন পত্রিকায় একজন জনপ্রিয় কলাম লেখক হিসেবেও বেশ আলোচিত একজন সাংবাদিক। তার বিশ্বাস, তরুণদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হতে হবে আজ এবং আগামীর পথে উদ্দ্যেমের সাথে চলার জন্য। তাদেরকে সঠিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাবো উচিত আর এই আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।

তরুণদের জন্য অনেক কিছু করার ভাবনা থেকে তিনি বলেন, 'আমরা আমাদের ওয়েব পোর্টাল বা আমাদের কাজের মাধ্যমে তরুণ বান্ধব একটি যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চাইছি এবং মেধার ভিত্তিতে যোগ্য তরুণদেরকে তাদের কাঙ্খিত গন্তব্য পৌঁছানোর জন্য কাজ করে যাব'।

আরও পড়ুন:  উপজেলা নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য করার নির্দেশ সিইসির

অনলাইন মিডিয়ায় জব্বার হোসেন পরিচিত নারীবাদী কলামিস্ট হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নারীবাদী সংস্থা ‘দ্য ফেমিনিস্ট’ এর সম্মানিত সদস্য তিনি। তার নারীবাদবিষয়ক গ্রন্থের মধ্যে ‘নারীর শক্র?’ উল্লেখযোগ্য। যার ভূমিকা লিখেছেন তসলিমা নাসরিন। বইটি একই সঙ্গে দুই বাংলা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। পার্ল পাবলিকেসন্স থেকে তার প্রকাশিত বই ‘নারীর শৃঙ্খল’ ও ‘নারী বিরোধী মিডিয়া’, যার ভূমিকা লিখেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল। ‘অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের রাজনৈতিক সাক্ষাৎকার’,‘একজন আদর্শ মানুষ মুহাম্মদ জাফর ইকবাল’ তার আলোচিত সাক্ষাৎকার গ্রন্থ। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত ইউনেসকো জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ডে জুরি বোর্ডের সম্মানিত সদস্য ছিলেন। ২০১৪ সালে কানাডিয়ান জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ডেও জুরি বোর্ডের সম্মানিত সদস্য ছিলেন তিনি। যুক্ত ছিলেন বন্ধু মিডিয়া ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ডের সঙ্গেও।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি