ঢাকা রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
২৭ °সে


স্থানীয়দের দাবি পুরাতন ভেঙ্গে নতুন ভবন, প্রধান শিক্ষক চান খেলার মাঠে

স্থানীয়দের দাবি পুরাতন ভেঙ্গে নতুন ভবন, প্রধান শিক্ষক চান খেলার মাঠে
চার বছর আগে বিদ্যালয়ের ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও প্রধান শিক্ষক চান পুরতান ভবনটি না ভেঙ্গে অন্যত্র নতুন ভবন নির্মাণ করা হোক। ছবি: ইত্তেফাক

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার চণ্ডিপুর মনসা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনটি চার বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবুও পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনটিতে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। নতুন চারতলা ভবন নির্মাণে বরাদ্দ এলেও প্রধান শিক্ষক চান পুরাতন ভবনটি না ভেঙ্গে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের মধ্যখানে নতুন ভবন করা হোক। এতে উদ্বিগ্ন অভিভাবক মহল।

স্থানীয় অভিভাবক মো. মাসুম জানান, চার বছর আগে বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের পুরাতন এই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও তা অপসারণ করা হয়নি। বরং এ ভবনটিতে পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. ফয়েজ আহম্মেদ বলেন, ১৯৯৫ সালে নির্মিত শহীদ মিনার সংলগ্ন একতলা ভবনটির ছাদ ও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদে পানি জমে ড্যামেজ হয়ে গেছে। সুপারি গাছ ও বাঁশ দিয়ে ছাদ ধস রক্ষা করা হলেও দ্রুত একতলা ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা উচিত।

জানা যায়, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের দাবির প্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সম্প্রতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চণ্ডিপুর মনসা উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য চারতলা ভবনের অনুমোদন দিয়েছে। ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয়রা দাবি করেন, পরিত্যক্ত ভবনটি ভেঙ্গে ফেলে ওই জায়গায় নতুন চারতলা ভবনটি নির্মাণ করা হোক।

কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ পরিত্যক্ত ভবনটি না ভেঙ্গে খেলার মাঠের প্রায় মাঝখানে সরকারি বরাদ্দে নতুন চারতলা ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সয়েলটেস্ট করতে বলেছেন। এতে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে এলাকাবাসীরা কেন পুরাতন ভবন ভেঙ্গে ওই জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে না জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক কোনো উত্তর না দিয়ে তাদের চলে যেতে বলেন। এতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।

আরও পড়ুন: জমিতে ছাগল ঢুকে পড়ায় মারামারি, প্রাণ গেলো ৩ মাসের শিশুর

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও শিক্ষাবিদ ইঞ্জিনিয়ার জাহীদুর রহমান শাহীন বলেন, আমরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। এলাকার মানুষ চায়, পুরাতন ভবনটি ভেঙ্গে সেখানে সরকারি বরাদ্দের টাকায় নতুন চারতলা ভবন হোক। নির্মাণ কাজ চলাকালীন পাঠদান যেন বাধাগ্রস্ত না হয় সেজন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে টিনসেড ক্লাসরুমের ব্যবস্থা করা হবে। এর প্রয়োজনীয় অর্থ ম্যানেজিং কমিটি যোগান দেবে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক কেন পুরাতন ভবনটি ভাঙ্গতে নারাজ তা আমরা বুঝতে পারছি না।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান ভূঁইয়া জানান, আমরা চাই না সরকারি নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটুক। এর সমাধানে স্থানীয় এলাকাবাসী, শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির লোকজনদের এগিয়ে আসতে হবে।

ইত্তেফাক/অনি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন