গরুর ব্রুসেলোসিস রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কারের সম্ভাবনা

গরুর ব্রুসেলোসিস রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কারের সম্ভাবনা
গরুর ব্রুসেলোসিস রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। ছবি: ইত্তেফাক

ব্রুসেলোসিস গবাদি পশুর একটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। এটি প্রজননতন্ত্রে সংক্রমণ হয়ে প্রাণীর গর্ভপাত, বন্ধ্যত্ব ও মৃত বাচ্চা প্রসবজনিত নানা জটিলতার সৃষ্টি করে। কোন প্রজাতির ব্রুসেলা ব্যাকটেরিয়ায় এই রোগ সংঘটিত হয় তা জানা না থাকায় চিকিৎসা করা সম্ভব হতো না। এতে খামারিয়া আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতেন।

প্রথমবারের মত দেশীয় গরুর ব্রুসেলোসিস রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। খুলল ব্রুসেলোসিস রোগের ভ্যাকসিন আবিষ্কার ও রোগ প্রতিরোধ করার দ্বার।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন, প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম। গবেষণা দলের অন্য সদস্যরা হলেন, মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. সুকুমার সাহা, ড. মোছা. মিনারা খাতুন এবং শিক্ষার্থী মো. সাদেকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রুসেলা অ্যাবোরটাস’ (ইৎঁপবষষধ ধনড়ৎঃঁং) নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে বাংলদেশে গরু ও মহিষে ব্রুসেলোসিস রোগ হয়ে থাকে। ব্রুসেলোসিস একটি জুনোটিক রোগ যা একই সঙ্গে মানুষ এবং গবাদি পশুতে সংক্রমিত হয়। কিন্তু ‘ব্রুসেলা অ্যাবোরটাস’ ব্যাকটেরিয়ার প্রায় ৮টি ভ্যারাইটি থাকায় দেশে কোনটি দ্বারা এ রোগ হয় তা এতদিন অজানা ছিল।

ব্যাকটেরিয়ার এ সকল ভ্যারাইটিকে বায়োভার বলা হয়। ২০১৫-২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ তিন বছরের গবেষণা করে দেশে গরুর ব্রুসেলোসিস রোগের জন্য দায়ি ‘ব্রুসেলা অ্যাবোরটাস বায়োভার-৩’ ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরীকে কানাডা থেকে ফেরত আনার দাবি

তিনি আরও বলেন, দেশে আক্রান্ত প্রাণীর রক্ত বা দুধে এই রোগের অ্যান্টিবডির উপস্থিতি নির্ণয়ের মাধ্যমে ব্রুসেলোসিস রোগ শনাক্ত করা হয়। গবাদি পশুতে এ রোগ শনাক্ত করার জন্য রোজ ব্যাঙ্গল প্লেট টেস্ট, ইলাইসা, মিল্ক রিং টেস্ট ব্যবহার করা হয়। তবে এই পরীক্ষা গুলো অনেক সময় আক্রান্ত প্রাণীতে সঠিকভাবে ব্রুসেলোসিস রোগ নির্ণয় করতে পারে না। তাই কোনো প্রাণীতে ব্রুসেলোসিস নিশ্চিত করার সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি হলো আক্রান্ত প্রাণী থেকে এ রোগের ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা। কারণ ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করলেই রোগ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

এই কথা চিন্তা করেই ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করার গবেষণাটি সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়াও এ ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণ জিনোম সিকুয়েন্স করা হয়েছে যা অ্যামেরিকার ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন এর জিন ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। আর এই জিনোম সিকুয়েন্স ব্যবহার করে ব্রুসেলোসিস রোগ নির্ণয় পদ্ধতি এবং এর কার্যকর টিকা উদ্ভাবন সম্ভব হবে। যেহেতু ব্রুসেলোসিস একটি জুনোটিক রোগ গরুতে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে মানুষেও এই রোগের প্রাদুর্ভাব কমানো সম্ভব হবে।

ইত্তেফাক/অনি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত