সেনাবাহিনীর ওপর ভর করে ক্ষমতায় আসতে চায় পাকিস্তানের বিরোধী দল

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ১৪:০৩

একটি বেসামরিক ও সামরিক সংঘাতের অতল গহ্বরে দাঁড়িয়ে আছে পাকিস্তান। এ সংঘাতের প্রধান কারণ হিসেবে সামরিক বাহিনীকেই দেখছে রাজনৈতিক বিরোধিতা মোকাবেলা করতে অক্ষম দেশটির নাগরিক নেতৃত্ব। সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্বেষ তৈরির জন্য দৃঢ় ভূমিকা পালন করছে দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দল।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, সেনাবাহিনী প্রথমবারের মতো বিরোধীদলের আক্রমণের স্বীকার হয়েছে। প্রতিবাদ সমাবেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিরোধী দলের  আক্রমণটি সামরিক বাহিনীকে কেন্দ্র করে নয়, প্রতিষ্ঠানের উপর নয়,  তারা রাষ্ট্র ভিত্তিক গভীর ষড়যন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। বিশেষত চিফ জেনারেল জাভেদ বাজওয়াকে তিন বছরের মেয়াদ বাড়ানোর পরে খান সরকারকে 'সুবিধাভোগী' হিসাবে দেখিয়েছে তারা। 

সেনাবাহিনী যদি জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করে এবং প্রারম্ভিক নির্বাচনের জন্য যেতে বাধ্য করে তবে বিরোধীদল খুশি হবে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় রাজনীতিবিদ এবং সেনাবাহিনীর জন্য রাস্তা খোলা থাকবে। এই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কয়েক মাস না হলেও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে বলে ধারণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাকিস্তানের অর্থনীতি মারাত্মক চাপের মধ্যে থাকলে বৈদেশিক দাতাদের সাথে দুর্সম্পর্ক তৈরী হতে পারে দেশটির। কারণ করোনায় ইতিমধ্যেই টনাপোড়োনের মধ্যে আছে প্রত্যেক দেশ। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক দুর্দশার এইরকম কঠিন সময়ে সেনাবাহিনী  রিমোট-কন্ট্রোল গভর্নমেন্টে জড়িয়ে পড়ছে। 

যুক্তরাজ্যের কাছে প্রচুর অর্থ প্রদান করে কেলেঙ্কারি গুলো দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে ইমরান সরকারের। যখন আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং কোনও বাধ্যবাধকতা খেলাপির কথা আসে, বা অতীতের সরকারকে দোষ দেওয়া এবং দুর্নীতির মামলা, বা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে' কোনো 'সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এই জিনিস গুলো কোনো আসন্ন সরকারকে সাহায্য করতে পারেন না।

পাকিস্তানের পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি কেবলমাত্র দেশীয় রাজনৈতিক জ্বালানী/ প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে। ঘরোয়া ভাবে পাকিস্তান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (পিডিএম) ১১ টি দলের বিক্ষিপ্ততার সমাধান করা হয়েছে, আশা করা যায় মাওলানা ফজলুর রহমান  ইমরান খান সরকার থকে  নিজেকে বিচ্ছিন্ন করবেন।পিডিএমের আহ্বায়ক মাওলানা ফজলুর রহমান ঘোষণা করেছিলেন যে ২০২১ সালের ২০ শে জানুয়ারী জোটটি কেবল ইমরান খান সরকারের বিরুদ্ধে নয়, ইমরান 'সমর্থক' এবং তার জোটের বিরোদ্ধে ইসলামাবাদে "লংমার্চ" করার পরিকল্পনাও করেছেন তবে তা রাওয়ালপিন্ডিতেও হতে পারে বলে জানা যায়।

সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদ ২ জানুয়ারী "পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবমাননাকারী ভাষা ব্যবহার করলে তার বিরোদ্ধে ৭২ ঘন্টার মধ্যে "শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এতে পাকিস্তান সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল কৌতুকপূর্ণ। পাকিস্তানি গণমাধ্যমে বলা হয় এই রাজনীতিবিদ হরহামেসেই এমন জোরালো ভাষা ব্যবহার করেন, তবে এই ব্যবস্থা কতটুকু কার্যকর হবে তার বিশ্বাসযোগ্যতা খুবই কম।

প্রতিবাদ সমাবেশের বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে পিডিএম তার সংকল্পে ঐক্যবদ্ধ থেকেছেন। তবে এর আহ্বায়ক জেআইআই (এফ) একটি নতুন দল গঠন করে বিভক্ত হয়েছে। সম্ভবত "লং মার্চ" রাওয়ালপিন্ডি পর্যন্ত প্রসারিত করার বিষয়ে ফজলুর রহমানের মন্তব্যকে এই উন্নয়নের প্রতিক্রিয়া হিসাবে দেখা হচ্ছে। একজন প্রবীণতম ইসলামপন্থী রাজনীতিবিদ মাওলানা ফজলুররহমান সর্বদা সেনাবাহিনীর নিকটবর্তী ছিলেন, তবে জামায়াতে ইসলামীর মতোই বিরোধী হয়ে উঠছেন তিনি। মিডিয়ার রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে সেনাবাহিনীর 'আশ্বাস' নিয়ে তিনি ২০২০ সালের মার্চে এবং নভেম্বরে তিনি তাঁর নিজের দল নিয়ে "লংমার্চ" শুরু করেন।

আন্দোলনকারীরা বিরোধী দলের অংশ হওয়ায় ইসলামপন্থীরা ইমরান খান সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর আন্দোলন শুরু করে। দ্য ফ্রাইডে টাইমসে (জানুয়ারী ১, ২০২১) তাঁর সম্পাদনায় নাজম শেঠি বলেছিলেন যে, পিএমএল (এন) নেতা খাজা আসিফ এবং এর আগে, নওয়াজের ভাই শাহবাজ শরীফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কারণ তারা দু'জনই 'মধ্যপন্থী' বজায় রেখেছিলেন। "জেনারেলদের বিরুদ্ধে বিরোধীদের হামলার কারণে ইমরান সরকারকে সেনা বাহিনীবিরোধী বিশ্বাসঘাতকতা হিসাবে চিত্রিত করেছেন তিনি।

সেনাবাহিনীর কাছে নাজম শেঠি'র পরামর্শ হলো আরও বেশি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনগণের অনুভূতিকে স্থান দিতে হবে। কারণ দিন দিন পাকিস্তানের পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি