ঢাকা বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২০ °সে


কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হতে চান আনোয়ার

কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হতে চান আনোয়ার
যুবলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন।ছবি: ইত্তেফাক

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের জাতীয় কংগ্রেস আগামী ২৩ নভেম্বর। কংগ্রেস সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন অনেকেই। লবিংয়ে পিছিয়ে নেই যুবলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হতে চান তিনি।

সার্বিক বিষয়ে কথা হয় আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, যুবলীগে সৎ যোগ্য নেতৃত্ব এখন সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযানকে সময় সাপেক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি সফল রাষ্ট্রনায়ক জননেত্রী শেখ হাসিনাও বিতর্কিতদের দলের নেতৃত্বে আর দেখতে চান না। তাই তিনি নিজের দল থেকেই প্রথমে এ শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন।

নিজেকে সৎ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল দাবি করে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি দলে অনুপ্রবেশকারী নয়। ছাত্রজীবন থেকে সততার সঙ্গে রাজনীতি করে যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছি। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক এবং ক্যাসিনোর সঙ্গে কখনও নিজেকে জড়াইনি।’

নিজের কাছে আপনি যোগ্য প্রার্থী কিনা; এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশবাসী ও আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড যেমন ব্যক্তিত্ব খুঁজছেন; আমি মনে করি প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমি যোগ্য। স্বাভাবিকভাবে যুবলীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হতেই পারি।’

সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হলে আপনার পরিকল্পনা কী; জানতে চাইতে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক যুবলীগকে ঢেলে সাজাতে চাই। সারাদেশে যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটিতে ভরে গেছে। আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে কখনো কোনো সংগঠন চলতে পারে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইউনিয়ন পর্যায় থেকে সম্মেলনের মাধ্যমে দলকে গঠন করতে চাই। নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান এমন ব্যক্তি হতে হবে। টাকা ও অস্ত্রের জোর যাদের আছে তারাই শুধু যোগ্য নয়। তাদের যোগ্যতা নির্ভর করবে আদর্শের প্রতি, নেত্রীর প্রতি, দলের প্রতি তাদের কতখানি শ্রদ্ধা আছে এ বিষয়ের উপর জোর দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচিত করতে চাই বলেও যোগ করেন তিনি।’

আনোয়ার বলেন, ২৮ অক্টোবর ২০০৬ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনে যুব মঞ্চ ঘিরে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘর্ষ চলাকালীন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাজপথে থেকে মোকাবেলা করেছি। একদিন সংঘর্ষের পর প্রচার হয়ে গেলো আমি মারা গেছি। কিন্তু দলের প্রতি দায়িত্ববোধ ও মাননীয় সভানেত্রীর কথা বিবেচনা করে একবারও নিজের জীবনের কথা ভাবেনি।

জানা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোরের ঝিকরগাছা গঙ্গানন্দপুর আনোয়ারদের বাড়িঘর রাজাকার ও পাকসেনারা লুটপাট করার পর আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পঁচাত্তর পরবর্তী তার বাবা দীর্ঘ ৪৫ বছর গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার বড় ভাই দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত কর্তৃক তার বাবা, বড় ভাই ব্যাপক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন।

আরও পড়ুন: জবির সেই কর্মকর্তার অনিয়ম তদন্তে কমিটি

মো. আনোয়ার হোসেন ঢাকার তেজগাঁও থানার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক (১৯৯৩-৯৫), পরবর্তীতে সভাপতি (১৯৯৫-৯৮), তেজগাঁও থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি (১৯৯৬-২০০০), ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সদস্য, তেজগাঁও থানা ছাত্রলীগের সভাপতি, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (২০০২-০৬), কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য (লিয়াকত-বাবু), কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় যুবলীগের সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কেন্দ্রীয় যুবলীগ কর্তৃক কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন।

এছাড়াও তিনি গঙ্গানন্দপুর ডিগ্রি কলেজের সভাপতি, ঝিকরগাছা ক্রিকেট ক্লাবের উপদেষ্টা, গঙ্গানন্দপুর ফুটবল ক্লাবের উপদেষ্টা, ঢাকাস্থ যশোর জেলা সমিতি ও ঢাকাস্থ ঝিকরগাছা উপজেলা সমিতির আজীবন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি গঙ্গানন্দপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আনোয়ার হোসেনের শ্বশুর অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওহাব অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ছিলেন। মামা শ্বশুর শেখ হারুন অর রশিদ খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং খুলনার (বটিয়াঘাটা-দাকোপ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালীন সেনাবাহিনীর কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে নির্যাতনের শিকার হন আনোয়ার। ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলায় আহত হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরলে গ্রেফতার হন এবং দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার পর মুক্তি পান যুবলীগের এই নেতা।

ইত্তেফাক/এএএম

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন