ঢাকা শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৭ °সে

সরকারের প্রতিবেদনে ইউনেস্কো সন্তুষ্ট নয় : জাতীয় কমিটি

সুন্দরবনের কাছে বিদ্যুেকন্দ্র ও ভারী শিল্প
সরকারের প্রতিবেদনে ইউনেস্কো  সন্তুষ্ট নয় : জাতীয় কমিটি

কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষার আগে সুন্দরবনের নিকটবর্তী এলাকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রসহ ভারী শিল্প নির্মাণের অনুমোদন না দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে ইউনেস্কো। সুন্দরবন নিরাপদ ও ভালো রাখার ব্যাপারে বাংলাদেশের সফলতা নিয়ে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৪১তম সভায় বেশ কিছু নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ ছিল। এ বছর আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৩তম সভায় সরকারের কৃত কাজের প্রতিবেদনে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি সন্তুষ্ট হয়েছে বলে মনে হয়নি। বরং ২০১৭ সালের কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য আবার জোর তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতারা এ দাবি জানান। ‘সদ্য সমাপ্ত ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভা, উপকূল ও সুন্দরবনের ভবিষ্যত্ এবং আমাদের করণীয়’ বিষয়ে এ আয়োজন করে ৫৩টি পরিবেশ ও নাগরিক সংগঠনের এ মঞ্চ।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য পাঠকালে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনেস্কোর একটি পর্যবেক্ষণ দল সরেজমিন সুন্দরবন দেখতে আসার কথা রয়েছে। আর বাংলাদেশ সরকারকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আবার কৃত কাজের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। আগামী বছরের জুলাইতে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৪তম সভায় তা আবার মূল্যায়ন করা হবে। সেই সভা বাংলাদেশ সরকারের কাজে সন্তষ্ট না হলে এ বছরের পরই আবার “সুন্দরবন বিপদাপন্ন ঐতিহ্য” তালিকায় চলে যেতে পারে।

সভাপতির বক্তব্য প্রদানকালে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রামপাল বিদ্যুেকন্দ্রের কারণে সুন্দরবনের কাছে ভারী স্থাপনার বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে এতদিন ভারত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ছিল। কাছাকাছি এলাকায় এখন চীনের অর্থায়ন-অংশীদারিত্বেও দুইটি কয়লাভিত্তিক স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে। এখন তারাও সরকারের অনড় অবস্থানের পক্ষ নিয়েছে। এটি দুঃখজনক ও সুন্দরবন বিনাশী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সুন্দরবনের পাশে গৃহীত প্রকল্পগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খুব উন্নতমানের নয়। অতএব এগুলো বন্ধ না করলে সুন্দরবনসহ এ এলাকা ব্যাপক বায়ু ও পানি দূষণের কবলে নিপতিত হবে। বৃহত্ শিল্পকারখানা সুন্দরবনের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে স্থাপিত হলে সুন্দরবনের বাঘ, নদীর ডলফিন ও ইলিশ মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে। এই বনটি আমাদের জন্য বিশাল বড় কার্বন শোষক স্থান, অজস্র পশু-পাখি, পোকা-মাকড়ের খাদ্য ও ওষুধের উত্স এবং সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের লাখ লাখ মানুষের জন্য রক্ষাকবচ। অতএব এই বন রক্ষা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য রুহীন হোসেন প্রিন্স ও শরীফ জামিল।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন