ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. সি এইচ রবিনের স্ত্রী রাখীর অমানুষিক নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মী নিপা বাড়ৈ (১১) বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। উজিরপুর থানা পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।
নির্যাতনের শিকার শিশু ও তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, করোনার কারণে অভাবের তাড়নায় ছয় মাস আগে স্থানীয় বাসুদেবের মাধ্যমে হারতা ইউনিয়নের জামবাড়ি গ্রামের ননী বাড়ৈর মেয়ে নিপা বাড়ৈ রাজধানীর শ্যামলীতে ডাক্তার সি এইচ রবিনের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে যোগদান করে। নিপা জানায়, কাজের শুরু থেকেই সামান্য ভুলত্রুটি হলেই ডাক্তার রবিনের স্ত্রী রাখী তার শরীরে কখনো খুনতি দিয়ে আঘাত করত, কখনো বা ধারালো চাকু দিয়ে কোপ মারত।
এমনকি চিত্কার দিলে গলা চেপে ধরে দেওয়ালের সঙ্গে তার মাথা ঠুকত। দিনের পর দিন এই অমানুষিক নির্যাতনে তার শরীরের দুই হাত, হাতের আঙুল, মাথা, গলা, মুখমণ্ডল ও পিঠসহ বিভিন্ন স্থানে অগণিত ক্ষতের সৃষ্টি হয়। বাড়ি থেকে মাঝেমধ্যে বৃদ্ধ দাদু ও কাকারা ফোন দিলে ডাক্তারের স্ত্রী রাখী মারধরের কথা না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখাত। গত ২১ ফেব্রুয়ারি নিপার মাথায় চাকু দিয়ে কোপ মারে রাখী। এতে নিপা সংজ্ঞা হারায়।
কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর কাউকে কিছু না বলার জন্য হুমকি দিয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি নিপাকে ডাক্তারের কম্পাউন্ডার বাসুদেবের মাধ্যমে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় রাখী। গ্রামের বাড়ি পৌঁছতেই বাড়ির দাদু, কাকিমা, কাকারা তার শরীরের এমন অবস্থা কী করে হলো, জানতে চান। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে নিপা কেঁদে ফেলে সবকিছু তাদের খুলে বলে। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে উজিরপুর মডেল থানার এসআই মাহাতাব নিপাকে নিয়ে উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
উজিরপুর হাসপাতালের দায়িত্বরত ডাক্তার নূসরাত জাহান সাকি জানান, নিপার শরীরের কিছু ক্ষত নতুন আর অনেক ক্ষত পুরাতন। তবে তার চিকিত্সা চলছে। নিপার কাকা তপন বাড়ৈ বলেন, নিপার শারীরিক অবস্থা দেখে আমরা কেঁদে ফেলি। এ বিষয়ে আমরা ডাক্তারের স্ত্রী রাখীকে মোবাইল ফোনে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে হুমকি দিচ্ছেন, আমরাও তার বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছি।’ স্থানীয় ইউপি সদস্য নওয়াব আলী বাড়ৈ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত জঘন্য। অভিযুক্ত রাখীর স্বামী ডা. সি এইচ রবিন বলেন, ‘বিষয়টি সাজানো।’ তবে তার স্ত্রী রাখী এই প্রতিবেদকের ফোন রিসিভ করেননি।
ইত্তেফাক/এসআই

