অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর ও অধিকার অর্জনে পাকিস্তান আমলে লড়াই করেছিলাম: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২১, ০৭:৫৮

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, ‘গণতন্ত্র, বাক্স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে আমরা পাকিস্তান আমলে লড়াই করেছিলাম। সেই লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। স্বাধীনতা লাভের ৫০ বছর পরও উন্নয়নের স্বাদ মানুষ প্রত্যাশিত পর্যায়ে গ্রহণ করতে পারেনি।’ 

তিনি গতকাল শনিবার বিকালে পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় আরো বলেন, ৫০ বছরে দেশে আরো পরিবর্তন হতে পারত। এই সময়কালে অন্যায়-অবিচার-দুর্নীতি দূর করা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয়নি। উন্নয়নের প্রকৃত স্বাদ মানুষ পায়নি। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, বিদ্যুত্—এসব হচ্ছে অবকাঠামোগত পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের সদ্ব্যবহার করে অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষালাভ তথা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে উন্নয়নের পরিচায়ক। নিয়োগ পরীক্ষা দেওয়ার পর চাকরিপ্রার্থীদের সুপারিশ, উেকাচ, তদবির ইত্যাদির ওপর যখন নির্ভর করতে হয়, তখন তরুণ প্রজন্ম হতাশায় ভোগে। এ অবস্থার পরিত্রাণ প্রয়োজন।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘আমরা ৩৬ বছর ধরে অব্যাহতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে ভাণ্ডারিয়াকে একটি উন্নয়নমুখী জনপদে রূপ দিতে পারছি। বিগত সরকারের সময়ে ভাণ্ডারিয়া সফরকালে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মো. মোশাররফ হোসেন ভাণ্ডারিয়া শহরকে একটি জেলা শহরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তখন তিনি বলেছিলেন, এখানে স্থানীয় সরকার খাতে ২ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাণ্ডারিয়ায় অতীতকাল থেকে চলমান উন্নয়নকাজের কথা জানেন এবং বলেন। স্বভাবতই তিনি যখন ক্ষমতায় থাকেন, তখন দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন গতিময় হয়। শেখ হাসিনা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বলেই এলাকার জনগণ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের স্বাদ পায়। ভাণ্ডারিয়ায় আমরা সবাই মিলে কাজ করি বলে এখানে যেমন উন্নয়নধারা বহমান, তেমনি এখানকার মানুষ সুখে-শান্তিতে থাকে। এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণে মারপিট-খুনোখুনি, ঝগড়া-বিবাদ-কাইজ্যা বর্জন করে একটি সুখী সমাজব্যবস্থা আমরা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছি। বিগত ৩৬ বছরে রাজনীতি এবং ১৮ বছরের বিভিন্ন সময়ের মন্ত্রিত্বকালে আমরা যা বলেছি, তার উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে শান্তি দেওয়া, স্বস্তি দেওয়া। ১৮ বছর ধরে কীভাবে মন্ত্রিত্ব করা সম্ভব—অস্ট্রেলিয়ার একজন মন্ত্রীর এরকম প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলাম, আল্লাহর হুকুমে এ কাজ করেছি। আল্লাহর হুকুম থাকলে এলাকার মানুষের মধ্যে একতা ও উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা থাকলে মানুষের কল্যাণে নীতি-নৈতিকতার সঙ্গে কাজ করা সম্ভব হয়। উন্নয়নের জন্য, কাজের জন্য নৈতিকতা থাকা বাঞ্ছনীয়। আমাদের এই কাজ অনেক সুদূরপ্রসারী এবং পথ দীর্ঘ। সব প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নয়নের প্রতি পরিচালিত করা গেলে জীবনমানের পরিবর্তন হবেই।’

মতবিনিময় সভায় উপজেলা জেপির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনি জোমাদ্দারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও  উপজেলা জেপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহিবুল হোসেন মাহিম, পৌর কাউন্সিলর ও উপজেলা জেপির যুগ্ম-আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মশিউর রহমান মৃধা, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপির যুগ্ম-আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান টুলু, গৌরীপুরের ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মজিবুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা জেপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মেজবাহ উদ্দিন আরিফ জোমাদ্দার, পৌর জেপির আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন মিয়া স্বপন, ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন যুবসংহতির সভাপতি মতিউর রহমান বুলবুল শরীফ, উপজেলা যুবসংহতির সদস্যসচিব মামুনুর রশীদ সরদার, ছাত্রসমাজের উপজেলা আহ্বায়ক সালাউদ্দিন রাহত জোমাদ্দার, যুবসংহতির নেতা বাহাদুর সরদার, নাসির সরদার, ফিরোজ আলম মুন্সী, ছাত্রসমাজের পৌর আহ্বায়ক মাহাবুব শরীফ প্রমুখ।এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা পার্টির (জেপি) সভানেত্রী আসমা আক্তার, জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল হাই হাওলাদার, উপজেলা জেপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ইউসুফ আলী আকন, জেপি নেতা মোশাররফ হোসেন সেন্টু মোল্লা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মো. মোস্তফা সিকদার ও মিঠু বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ভাণ্ডারিয়া শাহাবুদ্দিন সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. ফারুক হোসেন। শেষে জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপির পক্ষে জেপির উপজেলা সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলার ১ নম্বর ভিটাবাড়িয়া, ২ নম্বর নদমুল্লা, ৩ নম্বর তেলিখালী ও ৫ নম্বর ধাওয়া ইউনিয়নের জাতীয় পার্টি-জেপির মনোনীত বাইসাইকেল মার্কার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। প্রার্থীরা হলেন ধাওয়ায় সিদ্দিকুর রহমান টুলু, গৌরীপুরে মজিবুর রহমান চৌধুরী, নদমুলা-শিয়ালকাঠিতে মেজবাহ উদ্দিন আরিফ জোমাদ্দার, ভিটাবাড়িয়ায় মতিউর রহমান বুলবুল শরীফ ও তেলিখালীতে মো. শাহ আলম হাওলাদার। পরে দলের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপির কাছ থেকে প্রার্থীরা তাদের দলীয় মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দোয়া ও মোনাজাতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের জেপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

ইত্তেফাক/টিআর