পহেলা বৈশাখে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে সুবিধা বঞ্চিত মানুষের সম্মানে কাটা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সন্দেশ। দেশের প্রথম টেরিস্টেরিয়াল টিভি চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের ২০ বছর পদার্পন ও বাংলা নববর্ষ বরণে ৫০ কেজি ওজনের এ সন্দেশ তৈরি করা হয়েছিল।
রবিবার দুপুরে এনায়েতপুর ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে সমাজের সুবিধা বঞ্চিতদের নিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই সন্দেশ কাটা হয়। বৃহৎ সন্দেশের সঙ্গে ইতিহাসের সাক্ষী হতে ঢাকা, বগুড়া, জেলার বিভিন্ন প্রান্তসহ বিদেশ থেকেও উৎসাহী মানুষ অংশ নেয়। এ সন্দেশ দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় দেড় হাজার মানুষকে।
আয়োজকরা জানান, মানবতার কল্যানে নিবেদিত সংগঠন ‘ইটিভি একুশে ফোরাম’ গত প্রায় ১০ বছর ধরে এনায়েতপুর-চৌহালীতে বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, দুর্যোগে ত্রাণ সহায়তা, শহীদ মিনার নির্মাণ, দুস্থ শিক্ষার্থীসহ অসহায়দের সহযোগীতায় কাজ করে আসছে। পহেলা বৈশাখে ইটিভির ২০ বছরে পদার্পন উপলক্ষে এবার তারা বিশেষ আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, মিলাদ-দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, দিনব্যাপী বাউল উৎসবের পাশাপাশি ৫০ কেজি ওজনের সন্দেশের আয়োজন। তাঁতশিল্প ও দুগ্ধ ভান্ডারখ্যাত সন্দেশটি গাভীর ১০ মন খাঁটি দুধ দিয়ে তৈরি হয়েছে। এনায়েতপুর, শাহজাদপুর উপজেলার ঘোষদেশ সম্মিলিত বোর্ড এই বৃহৎ সন্দেশটি তৈরি করেছে।
আয়োজক একুশে ফোরামের সভাপতি আখতারুজ্জামান তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক ডনু ও সমাজ-সেবক শওকত আলী বলেন, ‘ইটিভির প্রতিনিধি স্বপন মির্জা তার এই প্রস্তাবের কথা বললে আমরা বিষ্মিত হই। পরে ঘোষদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে তা তৈরি করেছি। আমাদের এজন্য ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সন্দেশিটি লম্বায় ৩ হাত, প্রস্ত সোয়া ২ হাত ও উচ্চতা সাড়ে ৩ ইঞ্চি। আমরা সন্দেশটি তৈরি করতে পেরে দারুন আনন্দিত। ফেসবুকে প্রচার করেছি বলে সাড়া দেশজুড়েই সন্দেশটি নিয়ে সবার মাঝে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।’
তারা আরো বলেন, ‘আমরা গুগলে সার্চ করে দেখেছি, ২০১২ সালে চেন্নাই কিংসকে কলকাতা নাইটরাইডার্স চ্যাম্পিয়ান হবার পরে ইডেন গার্ডেন্সে টিম শাহরুখ খান কলকাতার বিখ্যাত নকুড়ের তৈরি ৩৪ কেজি ওজনের সন্দেশ কেটেছিল। তখন রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। এটাই এ যাবৎকালের বড় সন্দেশ ছিলো। এখন সে রেকর্ড ভেঙ্গে আমরা পৃথিবীর সর্ব বৃহৎ ৫০ কেজি ওজনের সন্দেশ তৈরি করেছি। আমরা চাই সন্দেশটিকে যেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকে স্থান দেওয়া হয়।’
তারা আরো জানান, সন্দেশটি কাটতে এতিম শিশু, প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে অতিথিরা যোগ দেবেন।
সন্দেশের পরিকল্পনাকারী স্বপন মির্জা জানান, ‘ভোজনবিলাশী বাঙালিদের ভিন্ন স্বাদের খাবারের প্রতি আকৃষ্টতা দীর্ঘ দিনের। অতিথি এলেই তাদের বুক উজাড় করে দেয় আপ্যায়নে। তাই আমরা বড় আকারের সন্দেশ দিয়েই হাজারো মেহমানদের আপ্যায়িত করবো। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উৎসাহী মানুষেরা এই সন্দেশ কাটা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।’
এদিকে সন্দেশটি তৈরি হয়েছে এনায়েতপুরের ঐতিহ্যবাহী রনি মিষ্টান্ন ভান্ডারে। এর সত্ত্বাধিকারী রনজিৎ ঘোষ, পৌরজনার অসীত ঘোষ ও শ্রী শম্ভু বলেন, ‘আমরা এতো বড় সন্দেশ তৈরি করবো কখনো ভাবিনি। প্রথমে আমরা অর্ডারই নিইনি। পরে দুই থানার ঘোষদের সঙ্গে বসে সন্দেশটি তৈরি করেছি। আমরা পৃথিবীর বড় সন্দেশটি তৈরি করতে পেরে, ইতিহাসের স্বাক্ষী হতে পেরে আনন্দিত।’
আরও পড়ুনঃ পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে আসার পথে স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা, কিশোর আটক
এলাকা জুড়েও এখন সন্দেশটি নিয়ে আগ্রহ ও উৎসাহের কমতি নেই। ছাত্র-ছাত্রী সবাই এ নিয়ে আনন্দিত। এ ব্যাপারে এনায়েতপুর ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয়রে সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল মতিন মিয়া, সুধীর চন্দ্র রায়, চিত্র শিল্পী মোশারফ হোসেন খান, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার মনিরুল ইসলাম জানান, আমরা আসলেই অভিভুত। সন্দেশ পুরোটাই মুখে দিয়ে খাওয়া যায়। আর এ সন্দেশটি ৯ জন মিলে ধরে আনতে হয়েছে। সন্দেশটি কাটতে জাপান হতে আনা সুবিশাল সামুরাই সংগ্রহ করা হয়েছে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের বাড়ি থেকে। এখন কখন কাটা হবে সেই ক্ষণের অপেক্ষায় এনায়েতপুর বাসী।
ইত্তেফাক/নূহু

