ঢাকা বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
২৫ °সে


পাকুন্দিয়ায় চার ডাক্তার দিয়ে চলছে তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা

পাকুন্দিয়ায় চার ডাক্তার দিয়ে চলছে তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা
পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবিঃ ইত্তেফাক

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় প্রায় তিন লাখ মানুষের বিপরীতে মাত্র চারজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ২১ জন চিকিৎসক থাকার কথা। তা না থাকায় চিকিৎসক সংকটে রয়েছে এলাকাবাসী। এ কারণে গ্রাম থেকে আসা রোগীরা কাংক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।

সরেজমিনে দেখা যায়, চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন নষ্ট। একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটির অবস্থা খারাপ। প্রসূতি বিভাগে যন্ত্রপাতি থাকলেও এনেসথেসিয়া ও গাইনি চিকিৎসকের অভাবে নরমাল ডেলিভারি করানোও যাচ্ছে না!

অথচ ভৌগলিক কারণে আশপাশের কাপাসিয়া, গফরগাঁও, হোসেনপুর উপজেলার মানুষও এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আবাসিক চিকিৎসকরা পালাক্রমে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। গাইনি চিকিৎসক, অর্থপেডিক্স চিকিৎসক, মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহ আরো অনেক ডাক্তার নেই এই হাসপাতালে।

বিধি-মোতাবেক ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কনসালটেন্টসহ ২১ জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও মাত্র চারজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম।

অন্যদিকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর জনবলেও রয়েছে দারুন সংকট। সুইপার, আয়া, ওয়ার্ডবয় না থাকার কারনেও অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।

হাসপাতালে দেখা যায়, চিকিৎসক গোলাম মুক্তাদির ও স্যাকমো কামরুল হাসান জরুরি বিভাগের চিকিৎসা দিচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীর ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। চিকিৎসক সংকটের কারণে কয়েকজন রোগীকে বারান্দায় আহাজারী করতেও দেখা যায়।

বিভিন্ন এলকা থেকে আসা কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১০০-১৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে এই হসপিটালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন অনেকে। কিন্তু ডাক্তার ও জনবল সংকট থাকার কারণে তাদের কাংক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারপরও এখানকার ডাক্তার যারা থাকেন তারা চেষ্টা করেন রোগীদের যেন ফিরে না যেতে হয়। কিন্তু তাতেও র্দীঘক্ষণ লাইন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অসুস্থ শরীর নিয়ে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার জানান, প্রতিদিন গড়ে ৩৫০-৪০০ জন রোগীকে আউটডোরে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদের মধ্যে ভর্তি রোগী থাকে ৪০-৫০ জনের মত। জরুরি বিভাগে ১৫০-২০০ জনের মত রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তিনি জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারদিকের নিরাপত্তা প্রাচীরের কিছু যায়গায় ভেঙ্গে যাওয়ায় চোরের উপদ্রব বেড়ে গেছে। আবাসিক কোয়ার্টারের কিছু ভবন জরাজীর্ণ হওয়ায় প্লাস্টার ধসে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসক স্বল্পতার কারণে সেবা অনেকটা ব্যাহত হয়ে থাকে। তারপরও সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। আমিও চেষ্টা করি যাতে কোন রোগী ফিরে না যায়। এখানে কমপক্ষে নয়জন ডাক্তার হলে রোগীরা কাংক্ষিত সেবা পাবে। অতি দ্রুত ডাক্তার, অ্যাম্বুলেন্স, ওয়ার্ডবয়, আয়া, সুইপার, নিরাপত্তাপ্রহরী, এমএলএসএস, অটোজেনেরেটর এই হসপিটালে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষ তাদের কাংক্ষিত সেবা পাবে।’

আরও পড়ুনঃ গঙ্গাচড়ায় জমি নিয়ে বিরোধ, প্রতিপক্ষের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও মারধর

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘চিকিৎসক সংকট সারা দেশ জুড়েই রয়েছে। খুব শিগগিরই সরকারিভাবে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ হবে। সরকারিভাবে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত এ সমস্যার সমাধান হবে না।’

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন