জসিমকে জুতা মেরে বাড়ি নিয়ে যাবার কথা ছিল

জসিমকে জুতা মেরে বাড়ি নিয়ে যাবার কথা ছিল
নিখোঁজ হবার পরের দিন স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: ইত্তেফাক

বন্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল জসিম। এ অপরাধে স্থানীয় লোকজন তাকে আটকে রেখে বাড়িতে খবর দেয়। পরে সালিশ বসে। সালিশে রায় হয়, জসিমকে নিয়ে যাবার সময় ২০ বার জুতা দিয়ে আঘাত করতে হবে। পরে তাকে আর বাসায় ফেরানো যায়নি।

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে নিখোঁজের একদিন পর নবম শ্রেণির ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ছাত্রর নাম জসিম (১৫)। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার সরমংলা আমতলা লেকের গাছের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে স্থানীয়রা। পরে পুলিশে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত জসিম উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের শাহাব্দিপুর গ্রামের মজিবুরের ছেলে। বাবা পেশায় কৃষক। পরিবারে চার ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলো জসিম। সে পিরিজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।

জসিমের বড় ভাই রাসিদুল জানান, কারো সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ নেই। তবে আমার ছোট ভাই বুধবার তারাবীর নামাজের সময় তার সহপাঠী বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটকে রেখে বাড়িতে খবর দেয়। পরে বাবা লোকজনসহ গ্রাম্য সালিশে বসেন। রায় হয় জসিমকে তার বাবা ২০বার জুতা দিয়ে আঘাত করে বাসায় নিয়ে যাবে। তারপর বুধবার রাত ১২টার পর থেকে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না।

আরও পড়ুন: শায়েস্তাগঞ্জে আগুনে পুড়ল ৮ দোকান

গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আত্মহত্যা নাকি হত্যা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে জানা যাবে। এ ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ইত্তেফাক/অনি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত