ঢাকা শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬
৩৪ °সে


আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার ৭২ সে.মি ওপরে

আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার ৭২ সে.মি ওপরে
ফাইল ছবি

নওগাঁর মান্দায় জোতবাজারে আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার ৭২ ও পত্নীতলা উপজেলার শিমুলতলীয় ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার সন্ধ্যায় এ নদীর পানি বিপদসীমায় অবস্থান করলেও ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বেড়েছে ৭০ সেন্টিমিটার। ইতিমধ্যে নদী সংলগ্ন বেড়িবাঁধ ভেঙে সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে আত্রাই ও ফকির্ণী নদীর উভয় তীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ৩০টি পয়েন্ট।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার জানান, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আত্রাই নদীর পানি বেড়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। আবহাওয়া পরিষ্কার হলে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান গুলোতে তদারকি করছেন পাউবোর লোকজন। বাঁধ টিকিয়ে রাখতে সকল প্রকার প্রস্তুতি রয়েছে।

মান্দা উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, সোমবার গভীর রাতে শহরবাড়ি ভাঙ্গীপাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অতিরিক্ত পানির চাপে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে চকরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিমধার, কয়লাবাড়ি ও বটতলা এলাকায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ। টিকিয়ে রাখতে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন স্থানীয়রা। এ অবস্থায় প্রশাসনের সহায়তা জরুরি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহীম হোসেন জানান, ২০১৭ সালের বন্যায় চকরামপুর ও কয়লাবাড়ি বেড়িবাঁধ ভাঙার পর আর মেরামত করা হয়নি। দুই গ্রামে অন্তত সাতশ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে পড়েছে। তলিয়ে গেছে বেড়িবাঁধের ভেতরের ফসল। পানিবন্দি মানুষ শেষ সম্বলটুকু নিয়ে উঁচু স্থান ও বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। ভালাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইব্রাহীম আলী বাবু জানান, নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় মদনচক, উত্তর লক্ষ্মীরামপুর ও বানডুবি পয়েন্ট চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। খরা মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব স্থান পরিদর্শন করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। সঠিক সময়ে সংস্কার কাজ করা হলে এলাকার মানুষকে ঝুঁকির মুখে পড়তে হত না।

আরও পড়ুন: গাজীপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ, আক্রান্ত ২২

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো নির্মাণের পর থেকে আজ পর্যন্ত আর সংস্কার করা হয়নি। শুষ্ক মৌসুমে এসব স্থানে সংস্কার করা হলে বর্ষা মৌসুমে অনেকটাই নিরাপদে থাকতেন নদীপাড়ের মানুষ।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা গুলোর সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নিচ্ছি। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সার্বক্ষণিক তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/অনি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন