সাঘাটায় ঈদ আনন্দ নেই তাদের মাঝে

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৪৫

সাঘাটা উপজেলার দিনমজুর মানুষের মাঝে ঈদ আনন্দ নেই। বন্যার প্রভাবে ও নিম্ন আয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। কৃষকের মাঠে ঘাটে এবং গৃহস্থের বাসা-বাড়িতে কাজ নেই। অনাহারে অর্ধাহারে জীবন যাপন করছে অসহায় পরিবারের লোকজন।

সাম্প্রতিক উত্তরাঞ্চলে বয়ে যাওয়া বন্যায় সাঘাটার সমস্ত জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকের জমিতে কোন কাজ নেই, টাকা নেই। এসব মানুষের মধ্যে খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। অথচ স্বপ্ন ছিল অন্তত অন্যের জমিতে কাজ করে মজুরির টাকা জমিয়ে ঈদুল আযহা উদযাপন করবে। পরিবার পরিজনের জন্য নতুন পোষাক এবং অন্তত একটি দিন হলেও একটু ভালো খাবার খাবে। কিন্তু সাম্প্রতিক বন্যা দিনমজুর মানুষদের সেই স্বপ্ন তছনছ করে দিয়েছে।

গত সোমবার বিকেলে ঘুড়িদহ ইউনিয়নের খামার পবনতাইড় (দক্ষিণপাড়া) গ্রামে সরেজমিনে গেলে ওই গ্রামের আব্দুল বাকী (৪৫), টগরু (৫৫), মান্নান (৫০), আব্দুর রাজ্জাক(৬০), আব্দুল করিমসহ আরও অনেকে বলেন, ‘আমাদের জমাজমি নেই অন্যের জমিতে কাজ করে মজুরির টাকাই একমাত্র জীবিকা নির্বাহের উপায়। কিন্তু এখন তো কৃষকের জমিতে কাজ নেই। এখন আমরা কিভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে চলি!’

পাতানী বেগম (৫৫) বলেন, ‘অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। এখন তো কারো বাড়িতে কাজ নেই। অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে।  আশা করেছিলাম ঈদের আগে সরকার চাল দিবে। একদিন পেট ভরে খেতে পারবো। চাল দেওয়ার সংবাদ শুনে চেয়ারম্যান মেম্বারদের কাছে ঘুরেও চাল পাইনি। যাদের কিছু আছে চেয়ারম্যান মেম্বাররা তাদের চাল দিয়েছে।’

একই কথা জানালেন আজিদা বেওয়া (৭২), আকলিমা (৫২), আঙ্গুর বেওয়া (৫৫), মাইজান (৭৩), অসনা (৫৫), ছাবেদা (৬০), আবেদা (৭০)সহ আরও অনেকে।

সংরক্ষিত মহিলা সদস্য আঙ্গুর বেগমের স্বামী মোফাজ্জল হোসেন জানান, পশ্চিম পাবনতাইড় (আয়পাড়া) গ্রামে ১৩০ জন বিধবা মহিলা আছেন। তারাও ঈদ উপলক্ষে দেওয়া চাল পাননি। এই নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার মতবিরোধ হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, কিছু গরীব লোক ঈদের ভিজিএফ-এর চাল পাননি। তারা আগে ত্রাণের চাল পেয়েছেন।

আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে

স্বচ্ছ্বল লোক চাল পেয়েছেন অথচ অসহায় লোকজন চাল না পাওয়ার ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জল কুমার ঘোষের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ভিজিএফের চাল ইউনিয়নে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। সেই চাল চেয়ারম্যানরা তালিকা করে বিতরণ করেছেন। সেখানে কেউ না পেলে কেন পেল না চেয়ারম্যানরা জবাব দিবে।

ইত্তেফাক/নূহু