ঢাকা বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬
২৭ °সে


পানি দেয়ার উপায় দেখতে নেদারল্যান্ডে যাওয়া ৬ জনই প্রকল্পের নন

পানি দেয়ার উপায় দেখতে নেদারল্যান্ডে যাওয়া ৬ জনই প্রকল্পের নন
ফাইল ছবি

রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) খাল খনন ও খালের পানি কৃষিকাজে কিভাবে জমিতে পানি দেওয়া যায় তা দেখতে নেদারল্যাণ্ডে গেছেন প্রতিষ্ঠানটির ৮ কর্মকর্তা। অথচ এ তালিকার মাত্র দুজন ছাড়া কেউ এই প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন।

প্রকল্পের আওতায় ২৪ কিলোমিটার খাল খননের কথা। ইতিমধ্যে ১৩ কিলোমিটার খনন শেষ হয়েছে। আর মাঝপথে বিএমডিএ কর্মকর্তাদের এই ভ্রমণ বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, খাল খনন ও খালের পানি কৃষিকাজে জমিতে ব্যবহারের সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বিএমডিএর হয়ে নেদারল্যাণ্ডে গেছেন আট কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে ৬জনই প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরণের প্রকল্পের টাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে দেশ ও জনগণ কতটুকু লাভবান হবে-তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিজ্ঞতার নামে বিদেশ ভ্রমণ সুশাসনের পথে বড় বাধা বলেও মনে করেন তারা।

সূত্র মতে, রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট, ও পবা উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ শেষ হয়েছে। মাঝপথে এসে প্রকল্প পরিচালক নাজিরুল ইসলাম, বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক আবদুর রশিদ, রাজশাহী রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফুল হক, পঞ্চগড় রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা মো. নূরে আলম নেদারল্যাণ্ড গেছেন। তাদের সঙ্গী হয়েছেন, পরিকল্পনা কমিশন ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের দুজন করে চার কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য বৃহস্পতিবার বিএমডিএর প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায় নি। তবে ভারপ্রাপ্ত সচিব ও মনিটরিং কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, খালের পানি কৃষিকাজে কীভাবে জমিতে দেওয়া যায়-তা দেখতেই বিএমডিএ কর্মকর্তাদের এই সফর। পানির সর্বোত্তম ব্যবহার করা যায় কিভাবে তা হাতে কলমে শিখতে কর্মকর্তারা নেদারল্যান্ড গেছেন।

এদিকে বিএমডিএর প্রকল্প মানেই সংশ্লিষ্টদের বিদেশ ভ্রমণ (!) এমন কথাবার্তা কর্মকর্তাদের মুখে মুখে থাকলেও সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে চান না কেউ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসন শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত না থাকলেও পর্যায়ক্রমে সব কর্মকর্তাই বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। বিদেশে ঘুরতে কে না চায়! তাই কোনোভাবে জড়িত দেখিয়েই তারা ঘুরছেন। এটা মন্ত্রণালয়ও জানে। যেহেতু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও থাকেন ওই বহরে, সুতরাং অভিযোগ করে কখনো ফল হয় না।

অভিযোগ উঠেছে, বিদেশ ভ্রমণে যাওয়া ৮জনের বহরের ছয় কর্মকর্তাই প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন। অথচ সরকারি টাকায় তারা ঘুরছেন নেদারল্যান্ডে। এরা হলেন, পরিকল্পনা কমিশনের এগ্রিকালচার ওয়াটার রিসোর্স এন্ড রুরাল ইনস্টিটিউশন ডিভিশনের যুগ্ম প্রধান আবু ইউসুফ মিয়া ও সিনিয়র অ্যাসিসট্যান্ট চীফ ফরিদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সচিব আল মামুন ও ফিল্ড সার্ভিস উইংয়ের উপ-পরিচালক (সীড) রাধেশ্যাম সরকার, বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রশিদ এবং বিএমডিএর পঞ্চগড় রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা মো. নূরে আলম।

অন্যদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরণের কৃষিভিত্তিক প্রকল্পে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ। সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনর রাজশাহী অঞ্চলের সাবেক সমন্বয়ক সুব্রত কুমার পাল বলেন, 'বিদেশ ভ্রমণের পর অধিকাংশ কর্মকর্তাই সফলভাবে অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করেন না। ফলে এখানে সরকারের টাকার অপচয় হয়। এ প্রকল্পেও বিদেশ ভ্রমণকারীদের তালিকা দেখে মনে হচ্ছে তারা প্রমোদ ভ্রমণে গেছেন।'

আরও পড়ুন: মেহেরপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

উল্লেখ্য, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে চালু হওয়া এ প্রকল্পে খরচ ধরা হয়েছে ২৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তবে খাল ২৮ থেকে ৩০ মিটার চওড়া ও তিন থেকে চার মিটার গভীর করে খনন করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ইত্তেফাক/এএন

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন