ঢাকা রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ১৩ মাঘ ১৪২৭
১৪ °সে

আদালতে বিমর্ষ সু চি, ন্যায়বিচারে রোহিঙ্গাদের সমাবেশ

আদালতে বিমর্ষ সু চি, ন্যায়বিচারে রোহিঙ্গাদের সমাবেশ
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে সু চি। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে উপস্থিত অং সান সু চি। বসে আছেন চুপচাপ। তার চেহারায় বিমর্ষতার ছাপ। যখন গাম্বিয়া যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে তখন নির্বাক দৃষ্টিতে বসেছিলেন শান্তিতে নোবেল পাওয়া এই নারী।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু হয়। শুরুতে প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যাকাণ্ড বন্ধে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু।

গাম্বিয়া তাদের যুক্তিতর্কে রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের তদন্তে উঠে আসা ধর্ষণ, হত্যা, অগ্নিকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিভিন্ন তথ্য দেয়। এসময় আদালতের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন সোমালিয়ার বিচারপতি আব্দুল কোয়াই আহমেদ ইউসুফ।

আদালতে যখন শুনানি চলছিল তখন আদালতের বাইরে কয়েক ডজন রোহিঙ্গাকে ন্যায়বিচারের দাবিতে সমাবেশ করতে দেখা যায়। অপরদিকে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে সু চির সমর্থনে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশ করে।

ন্যায়বিচার চায় রোহিঙ্গারা। ছবি: সংগৃহীত

নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) এই শুনানি হচ্ছে। এটি চলবে তিন দিন। বুধবার সু চি নিজেই মিয়ানমারের পক্ষে এ মামলায় আইনি মোকাবিলার নেতৃত্ব দেবেন বলে শোনা যাচ্ছে। এদিন তিনি বক্তব্য দেবেন।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ১৫ জন নির্দিষ্ট বিচারপতি রয়েছেন। তবে এই শুনানিতে ১৫ জনের সঙ্গে রয়েছেন আরও দুজন এডহক বিচারপতি। গাম্বিয়ার পক্ষ থেকে নাভি পিল্লাই এবং মিয়ানমারের পক্ষ থেকে প্রফেসর ক্লাউস ক্রেস এডহক বিচারপতি হিসেবে যোগ দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী শুনানির শুরুতেই তাদের দুইজন শপথ নেন। তিন দিনের শুনানি শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

আদালতে বিচারকরা। ছবি: সংগৃহীত

এদিকে পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হকের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদলও তথ্য উপাত্ত নিয়ে শুনানিতে উপস্থিত থাকছে। প্রতিনিধিদলে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিও রয়েছে।

রাখাইনের নিপীড়িত রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা এ শুনানি উপলক্ষে দ্য হেগের পিস প্যালেসে উপস্থিত হয়েছেন। শুনানি শুরুর আগে তারা ন্যায়বিচারের প্রার্থনা করেন।

গত নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে রোহিঙ্গা নিধনের অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধ মামলাটি দায়ের করে গাম্বিয়া।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন