ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
২৬ °সে


‘কয়েক হাজার যাজক গোপনে সমকামী জীবনযাপন করেন’

‘কয়েক হাজার যাজক গোপনে সমকামী জীবনযাপন করেন’
ছবি-সংগৃহীত

ভ্যাটিকানে অবস্থানরত ক্যাথলিক খ্রিষ্টান ধর্মযাজকদের বিরুদ্ধে সমকামিতার গুরুতর অভিযোগ আনলেন ফরাসি লেখক ফ্রিডেরিক মার্কেল। ‘দ্য ভ্যাটিকান ইজ আ গে অর্গানাইজেশন’ অর্থাৎ ভ্যাটিকান এটা সমকামী সংস্থা এই নামে লেখা বইতে তিনি এমন দাবি করেছেন। বইটি প্রকাশের পরই এ নিয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। খবর বিবিসির।

ফ্রেঞ্চ এই লেখক দাবি করছেন ক্যাথলিক চার্চের প্রাণকেন্দ্রে কীভাবে দুর্নীতি এবং ভণ্ডামি লুকিয়ে আছে সেটাই তিনি উন্মোচন করেছেন। ফ্রান্সের লেখক ফ্রিডেরিক মারটেল বলেছেন, তিনি চার বছর ধরে অনুসন্ধান করে বইটি লিখেছেন।

লেখক দাবি করেছেন কয়েক হাজার যাজক গোপনে সমকামী জীবনযাপন করেন। আবার তারাই জনসাধারণের সামনে এই সমকামিতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে। তিনি বলেছেন, ‘তারা সমকামিতা নিয়ে যতটা সমালোচনা করেছে তারা গোপনে সমকামী জীবন উপভোগে ততোটাই কামুক।’

মারটেল একজন সাংবাদিক এবং সমাজবিজ্ঞানী যিনি ফেন্স সরকারের হয়ে কাজ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘চার বছরের অনুসন্ধানের ফলাফল এই বই। আমি কয়েকটা দেশে গিয়ে কয়েক ডজন কার্ডিনাল, বিশপ, যাজক হওয়ার প্রশিক্ষণার্থী এবং যারা ভ্যাটিকানের সাথে যুক্ত তাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি।’

মারটেল বলেছেন, তিনি ৪১ জন কার্ডিনাল, ৫২ জন বিশপ এবং দুইশর বেশি যাজক শিক্ষার্থী এবং রাষ্ট্রদূতদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, অনেক তরুণ যারা তাদের গ্রামে নিজেদের যৌন বৈশিষ্ট্যের জন্য নিগৃহীত হয়। তারা পালানোর একটা পথ হিসেবে যাজক জীবনকে বেছে নেয়। এভাবেই চার্চ ‘একটা ইন্সটিটিউশনে পরিণত হয়েছে যেখানে বেশিরভাগ সমকামী।’ লেখক দাবি করেছেন ‘আমি আবিষ্কার করেছি ভ্যাটিকান একটা উচ্চ পর্যায়ের সমকামী সংস্থা।’

সমকামীরা একটা কাঠামো তৈরি করেছে, যার ফলে দিনে তারা তাদের যৌন বৈশিষ্ট্য দমন করে রাখে। কিন্তু রাতে প্রায় ক্যাব (গাড়ি) নিয়ে সমকামী বারে যায়। মারটেলকে একটা সূত্র বলেছে, ভ্যাটিকানে ৮০ শতাংশ সমকামী কিন্তু ফ্রেন্স এই লেখক নিরপেক্ষভাবে সংখ্যাটি নিশ্চিত করতে পারেননি।

লেখক ফ্রিডেরিক মার্কেল

কিন্তু ধর্মতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ জেমস মার্টিন ফ্রেঞ্চ এই লেখক যে উপায়ে সাক্ষাৎকার থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বিবিসিকে বলেছেন ‘মারটেল তার বই এর জন্য গভীর অনুসন্ধান করেছে। তিনি চার্চে সমকামিতা এবং ভণ্ডামির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিয়েছেন।’

‘কিন্তু এই ধারণা বরফ ধসের নীচে যেমন চাপা পরে তেমনিভাবে চাপা পরে যাবে পরোক্ষ বক্রোক্তি, রটনা, গুজবের মত করে। এটা পাঠকদের হতবিহবল করে দিবে। বাস্তবতা এবং মিথ্যা গল্পের মধ্যে পার্থক্য করা যেমন কঠিন কাজ এটা তাদের জন্য তেমন কঠিন হবে’ বলেন জেমস মার্টিন।

ইত্তেফাক/কেআই

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৫ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন