আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ লোগারে ৩টি স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ১’শ ৬৫ জন ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি শিশু অ্যাডভোকেসি গ্রুপের বরাত দিয়ে এই খবর প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।
অ্যাডভোকেসি গ্রুপটি জানিয়েছে, তারা সম্প্রতি লোগার প্রদেশের ৩টি স্কুলের ছাত্রদেরকে শিক্ষকদের যৌন নির্যাতনের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে। এসময় ১’শ ৬৫ জন ছাত্র তাদের কাছে স্বীকার করেছে যে তারা তাদের স্কুলের শিক্ষক কিংবা নির্যাতন বিষয়ে সাহায্য নিতে যাওয়া স্থানীয় কর্মকর্তাদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্র নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছে, তার শিক্ষক চূড়ান্ত পরীক্ষায় ফেল না করানোর শর্তে তাকে স্কুল লাইব্রেরিতে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। ওই স্কুলের আরেক ছাত্র দাবি করে, তার স্কুলের প্রিন্সিপাল তাকে ধর্ষণ করেছে এবং ধর্ষণের কথা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে।
অ্যাডভোকেসি গ্রুপটি দাবি করেছে, ধর্ষণের বিষয়ে টলো নিউজে বিবৃতি দেওয়ার পর তাদের দুইজন নেতা মোহাম্মদ মুসা এবং এহসানুল্লাহ হামিদিকে আটক করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা। এ বিষয়ে আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক মোহাম্মদ মুসাকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত ‘মারাত্মক ভুল’।
আরও পড়ুন: পটিয়ার চার গ্রামে সুপেয় পানি সরবরাহের নির্দেশ হাইকোর্টের
এদিকে ছাত্র ধর্ষণের বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে গভীর শোক প্রকাশ করে এই ঘটনায় তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। চাপের মুখে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওই তিনটি স্কুলে একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে।
লোগারের প্রাদেশিক সরকারের গভর্নর মোহাম্মদ আনোয়ার আশাকজাই জানিয়েছেন, ছাত্রদের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তবে যদি এসব তথ্য মিথ্যা ও অসঙ্গতিপূর্ণ প্রমাণিত হয় তাহলে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে লোগার প্রাদেশিক পুলিশের মুখপাত্র শাপুর আহমদজাই বলেছেন, অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ধর্ষণের বিষয়ে কেউ পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে আসেনি।
ইত্তেফাক/এসইউ
