নকল পণ্য ও সচেতনতা

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২০, ২১:২৯

সাম্প্রতিক সময়ে নকল পণ্যের বিস্তার ব্যাপক আকার ধারণ করিয়াছে। নকল হইতেছে প্রসাধনী, জীবনরক্ষাকারী ঔষধ, সিগারেট, মোবাইল হ্যান্ডসেট, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এমনকি নকল রেভিনিউ স্ট্যাম্প পর্যন্ত। প্রযুক্তির সুবিধার কারণে নকল পণ্য হইতে আসল পণ্য আলাদা করিয়া নির্ণয় করা মুশকিল হইয়া পড়িতেছে। ফুটপাত হইতে শুরু করিয়া অভিজাত বিপণিবিতান পর্যন্ত সর্বত্র স্থান করিয়া লইতেছে নকল পণ্য। ইহার ফলে সরকার একদিকে রাজস্ব হইতে বঞ্চিত হইতেছে, অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছেন প্রকৃত ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়িতেছে ক্রেতা, পরিবেশেরও হইতেছে মারাত্মক ক্ষতি। এইসব কারখানার একটি বৃহত্ অংশ গড়িয়া উঠিয়াছে পুরান ঢাকায়। সেখানে অবৈধ কারখানায় বানানো হইতেছে নামিদামি ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য। এই সামগ্রিক কর্মকাণ্ড বিভিন্ন চক্রের মাধ্যমে সম্পাদিত হইয়া থাকে। একটি চক্র বিদেশ হইতে দামি ব্র্যান্ডের কোনো পণ্যের প্যাকেট বা লেভেলের নকল দেশে নিয়া আসিতেছে। পরবর্তী সময়ে ঐ প্যাকেটে নকল পণ্য ঢুকাইয়া তাহা বাজারজাত করা হইতেছে। রাজধানীতে প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে এই নকল কারখানাগুলো চলিতেছে তাহা আমাদের বোধগম্য নহে। নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, যাহাদের দায়িত্ব অভিযান চালানো এবং এইরূপ নকল পণ্যের কারখানা বন্ধ করা তাহারা সেটা পূর্ণাঙ্গরূপে পালন করিতেছেন না। বিএসটিআইকে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে আরো সক্রিয় হইতে হইবে। বাজারে যেই সকল ক্ষতিকর নকল পণ্য রহিয়াছে তাহা দূর করিতে বিএসটিআইকে নিয়মিত অভিযান চালাইতে হইবে।  

দেশে সবচেয়ে বেশি নকল হইতেছে প্রসাধনসামগ্রী। বাংলাদেশ কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ ইমম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গিয়াছে, বছরে প্রসাধনপণ্য বিক্রি হয় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার। এর ৬০ শতাংশ দেশে উত্পাদিত হয়। বাকিগুলি আমদানি করা হয়। কেউ কেউ মনে করেন, বাজারে বিক্রি হওয়া প্রসাধনীর প্রায় অর্ধেক নকল। এইগুলি ক্ষতিকর রাসায়নিক ও অন্যান্য উপাদান দিয়া তৈরি। এইসব প্রসাধনী ব্যবহার করিয়া অনেকে নানা রোগে আক্রান্ত হইতেছেন। ঔষধের মতো জনদরকারি সামগ্রীও নকল হইতেছে। ইহার স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো বেশি। অপরদিকে দেশে ব্যবহূত মোবাইল ফোনের ২০ শতাংশই নকল। এই সকল নকল মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন উচ্চমাত্রার হইয়া থাকে, যাহা মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ইহা ছাড়া নকল ইলেকট্রনিক পণ্যের আয়ু অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় দেশে ই-বর্জ্য তৈরি হইতেছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নকল ও ভেজাল বন্ধ করিতে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করিয়াছেন। তাহা সংশ্লিষ্ট সকলকে মানিয়া চলিতে হইবে। তাহা ছাড়া যাহারা এই নকল কারবারির সঙ্গে যুক্ত তাহাদের বিদ্যমান আইনের আওতায় আনিয়া কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করিতে হইবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য আইনের অধীনে তাহাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। প্রয়োজনে বিদ্যমান আইন সংশোধন করিয়া শাস্তির পরিমাণ বাড়াইতে হইবে। পাশাপাশি নকল পণ্য পরিহারের ব্যাপারে ভোক্তাদেরও সচেতন হইবার প্রয়োজন রহিয়াছে। কেবল ভোক্তাদের সচেতন করার মাধ্যমেই নকল পণ্যের প্রচলন অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব।