কক্সবাজার পৌরসভার দুই কাউন্সিলরের পর এবার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের করোনা পজিটিভ এসেছে। সঙ্গে করোনা পজিটিভ এসেছে তার পরিবারের অপর ৪ সদস্যেরও।
শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাব থেকে পাওয়া টেস্ট রিপোর্টে মেয়রসহ পরিবারের ৫ সদস্যের করোনা ‘পজেটিভ’ এসেছে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, মেয়র মুজিবুর রহমান তার পরিবারের অন্যান্যদের শরীরের স্যাম্পল টেস্ট করতে গত ২৯ মে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে দিয়েছিলেন।
মেয়রের পরিবার সূত্র জানায়, কোন ধরনের লক্ষ্মণ না থাকলে একটু টেনশন মুক্ত হতেই শরীরের স্যাম্পল পরীক্ষা করতে দিয়েছেন তারা। এতে করোনা পজিটিভ আসায় কক্সবাজারে করোনার নিরব প্রাদূর্ভাব নিয়ে হতাশা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, করোনার ভয়কে জয় করে স্বাভাবিক জীবনের প্রত্যাশায় নিজেসহ পরিবারের সবার সুস্থতায় দোয়া চেয়েছেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান। মেয়র মুজিব বলেন, জনসেবায় জনতার মধ্যে থাকতে গিয়ে হয়তো করোনায় আক্রান্ত হয়েছি। আমার থেকে সংক্রমিত হয়েছে পরিবারের সদস্যরা। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।
অন্যদিকে, এরআগে গত ২৮ মে কক্সবাজার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান মিজান ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সালাহউদ্দিন সেতুর করোনা আসে। এরপরই করোনা নিয়ন্ত্রণে তারা কক্সবাজারে কারফিউ জারির আকুতি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া জানান, কলেজের ল্যাবে শনিবার (৩০মে) ১৬৪জনের স্যাম্পল টেস্টের ফলাফলে তিনজন ফলোআপ পজিটিভসহ ২৯জনের রিপোর্ট ‘পজেটিভ’ এসেছে। এদের মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলায় ২১জন ও চকরিয়ায় ১জন। চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার ১জন, বান্দরবান সদরে ১জন, রুমা উপজেলার ১জন ও থানচি উপজেলার ১জন রয়েছে। বাকি ৩জন চকরিয়া উপজেলার পূর্বের করোনা পজিটিভ। ফলোআপ রিপোর্টে তারা আবারো ‘পজেটিভ’ এসেছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যে এনিয়ে কক্সবাজার জেলায় ২৭ রোহিঙ্গাসহ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪০জন। মারা গেছেন ১৪জন। নিহতদের মধ্যে সদর উপজেলার ৯জন, চকরিয়ার ৪জন এবং রামুর ১জন রয়েছে।
আর, কক্সবাজার সদরে ২৫১জন আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২২জন। রামুতে আক্রান্ত ২৪জনে সুস্থ হয়েছেন ২জন। চকরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৫৭জনে সুস্থ হয়েছেন ৭০জন। পেকুয়ায় আক্রান্ত ৩৮জনে সুস্থ ২১জন। মহেশখালীতে আক্রান্ত ৩১জনে সুস্থ ১২জন। টেকনাফে আক্রান্ত ২১জনে ও সুস্থ হয়েছেন ৮জন। উখিয়ায় আক্রান্ত ৮৯জনে সুস্থ হয়েছেন ৭জন আর কুতুবদিয়ায় আক্রান্ত ২জন এখনো চিকিৎসাধীন।
ইত্তেফাক/আরকেজি
